যশোরে ছাত্রীদের মেসে তালা, পুলিশি সহায়তায় বের হলেন শিক্ষার্থীরা

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ ॥ যশোর শহরের বনবীথি লেনের কারবালা রোড এলাকায় ছাত্রীদের একটি মেসে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের বের হওয়ার ব্যবস্থা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ভাই ভাই ভবন’ নামে একটি পাঁচতলা ভবনের এক তলায় যশোর মহিলা কলেজের কয়েকজন ছাত্রীর মেস রয়েছে। ভবনটির মালিক আনোয়ার হোসেন (৭০), যিনি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী যশোর মহিলা কলেজের সাবেক কর্মচারী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মেসে থাকা ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ভবনের একটি অংশে তালা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসিন্দা, বিভিন্ন মেসে থাকা শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন কলেজশিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় মেসে থাকা ছাত্রীরা ভেতর থেকে চিঠি লিখে নিচে উপস্থিত লোকজনের কাছে ছুড়ে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। চিঠিতে দ্রুত তাদের বের করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী কাঁচি গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের উপস্থিতির পর ভবনের মালিকের স্ত্রী মেসের তালা খুলে দেন। এরপর পুলিশ ভবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালায়।

এদিকে ঘটনাটি জানার পর কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবক ও স্বজন ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তারা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে মেস থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, পুলিশের আগমনের আগে ভবনের মালিক অন্য একটি ভবনের দিকে চলে যান। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উল্লেখ্য, ভবনের মালিককে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগের কথা শোনা গেলেও সেসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ বা মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট আইনগত নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং তদন্তে নতুন তথ্য এলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।