শিক্ষকতা থেকে ইবি’র উপাচার্য; ড. মতিনুর রহমানের বর্ণাঢ্য পথচলা

তিন দশকের শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নেতৃত্বে ড. এ কে এম মতিনুর রহমান

0

ইবি সংবাদদাতা, লোকসমাজ : ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ, শ্রেণিকক্ষের জনপ্রিয় শিক্ষক, গবেষক ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর—প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। দীর্ঘ তিন দশকের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৫তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে তার নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়।

বগুড়ার এক নিভৃত গ্রাম থেকে উঠে আসা ড. মতিনুর রহমানের উপাচার্য হয়ে ওঠার পথচলা ছিল মেধা, অধ্যবসায় ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া। তার শিক্ষাজীবনের শুরু বগুড়ার চোপিনগর এম. এল. উচ্চ বিদ্যালয় ও কাহালু কলেজে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৯১ সালে এমএসএস পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের একাডেমিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০০৭ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও এনজিও কার্যক্রম’ বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

১৯৯৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে তার শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয়। একই বছর তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্স অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।

শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ড. মতিনুর রহমান। তিনি প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজের পরিচালক এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবেও পরিচিত।

একজন গবেষক হিসেবেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রশাসন বিষয়ে তার ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তার লেখা ‘NGO and Development: Myth & Reality’ এবং ‘Poverty and Development in Bangladesh’ বই দুটি একাডেমিক মহলে সমাদৃত।

গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডের সূত্রে তিনি চীন, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।

একাডেমিক পরিচয়ের বাইরে জাতীয় বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও নিয়মিত মতামত দিয়ে থাকেন ড. মতিনুর রহমান। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলিষ্ঠ বিশ্লেষক হিসেবে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

একজন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় কতদূর এগিয়ে নিতে পারেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।