চৌগাছায় স্বামীকে তালাক দেওয়ায় গৃহবধূকে ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করার অভিযোগ

0
যশোরের চৌগাছায় স্বামীকে তালাক দেওয়ার চার দিন পর রাতের আঁধারে মুখোশধারীদের ব্লেড হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা যশোর ॥ যশোরের চৌগাছায় স্বামীকে তালাক দেওয়ার জেরে মরিয়ম বেগম নামের এক সন্তানের জননীকে ব্লেড দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আন্দুলিয়া গ্রামে তার নিজ পিতৃালয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম উপজেলার ছোট আন্দুলিয়া গ্রামের হযরত আলী টিটোর মেয়ে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬-৭ বছর আগে ভারত সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আলম শাহারিয়া ওরফে শুভর সাথে মরিয়মের বিয়ে হয় এবং তাঁদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিয়ের প্রায় চার বছর পরে স্বামী শুভ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্বামী বিদেশে চলে যাওয়ার পর শ্বশুর আব্দুর রহিম প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম। বিষয়টি স্বামী শুভকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পিতার বাড়িতে চলে আসেন এবং গত চার দিন আগে শুভকে আইনগতভাবে তালাক দেন।

ঘটনার রাতে মরিয়ম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে আসার পর ওত পেতে থাকা চারজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাকে জাপটে ধরে বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। মরিয়মের অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে একজন তার মুখ চেপে ধরে এবং অন্যজন ব্লেড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত করে।

এ সময় অপর একজন হামলাকারী তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলছিল বলেও তিনি জানান। পরে তার ডাক চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি একটি কাজে গ্রামের বাইরে থাকলেও রাতেই হামলার ঘটনাটি শুনেছেন।

অপরদিকে অভিযুক্ত সাবেক শ্বশুর আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার স্ত্রী নাহিদা বেগম ফোন রিসিভ করে জানান, বৌমা নিজেই তালাক দিয়ে চলে গেছে এবং তাদের ফাঁসানোর জন্য এটি একটি সাজানো নাটক ও ষড়যন্ত্র মাত্র।