বন্যাদুর্গত কাউকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না: বান্দরবানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অমিত

পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের আশ্বাস

0
বান্দরবানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অমিত
বুধবার সকালে বান্দরবান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত - লোকসমাজ

 স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে সরকার একা ছেড়ে দেবে না। পাহাড়ি, বাঙালি কিংবা অন্য যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ—সকলেই এ দুর্যোগে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কোনো ভেদাভেদ নয়, সবার দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

বুধবার সকালে বান্দরবান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা আমবাগান এলাকায় মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা ও বড়ুয়া জাতিগোষ্ঠী এবং পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে বান্দরবানে এসেছেন। বন্যার প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য রান্না করা খাবার এবং কেন্দ্রের বাইরে থাকা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিমও কাজ করছে।

এ সময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের দুর্ভোগ ও বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। জবাবে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সমাধানের জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কাজ শুরু করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে তিনি আবারও দুর্গত এলাকায় সফর করবেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে, যাতে মানুষ দ্রুত নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় কাদা, আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে রোগব্যাধির ঝুঁকি কমে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত বসবাস উপযোগী হয়ে ওঠে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।