মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

0
ছবি: সংগৃহীত।

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদেরকে হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিপিং ব্যবসায়ীরা।

রোববার দুপুরে কাস্টম হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কাস্টমস কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অপসারণের দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বন্দরে আসা বিদেশী জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ডলার, হুইস্কি ও সিগারেট আদায় করা হয়। পরে এসব সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগও তোলা হয়েছে। এ ছাড়া জাহাজের আগমনসংক্রান্ত তথ্য ও ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইজিএম শাখায় অনিয়ম, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অনৈতিক সুবিধা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বৈধ পণ্য খালাস করতে আসা ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপ হ্যান্ডলারদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া এবং অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আবুল কালাম আজাদ, নুরউদ্দিন টুটুল ও কামাল হোসেনসহ অন্যরা। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কাস্টমস কমিশনার গিয়াস কামালের সাথে দেখা করে তার বরাবর স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।মোংলা কাস্টমস কমিশনার গিয়াস কামাল ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।