নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব সবার: যশোরে জুলাই যোদ্ধা সংবর্ধনায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব সবার : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
বুধবার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, যশোর আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত - লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, “এই বাংলাদেশ শুধু বিএনপির নয়, এটি সকলের বাংলাদেশ। তাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাঁধে তুলে নিতে হবে। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলব, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলব। কিন্তু ফ্যাসিবাদ যে অপসংস্কৃতি রেখে গেছে—গুরুজনদের অসম্মান করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে কটূক্তি করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও বিদ্বেষ ছড়ানো—সেসব পরিহার করতে হবে। এসব আচরণ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করে।”

বুধবার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, যশোর আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “বিএনপি ও তারেক রহমানকে জুলাই চেতনা শেখানোর চেষ্টা করা হলে তা হাস্যকর মনে হয়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, বিএনপি সেই সনদের প্রতিটি শব্দ ও চেতনাকে ধারণ করে। সনদের রাজনৈতিক বাস্তবায়নে যা কিছু প্রয়োজন, বিএনপি তা করবে।”

তিনি বলেন, সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধিকাংশ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা হয়েছে। তবে কিছু অধ্যাদেশে সংশোধনের প্রয়োজন থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে আইনে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে জুলাই চেতনার বিরোধী হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার বারবার ব্যাখ্যা করেছে যে কিছু অধ্যাদেশে নানা ধরনের ত্রুটি ছিল। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ করতে হলে এসব বিষয়ে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ছিল গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। ইতোমধ্যে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও চূড়ান্ত হয়েছে, যা আগামীতে সংসদে পাস করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের অবদান আমরা ভুলে যাইনি। ছোট কিংবা বড়—সব অবদানই সম্মানের। বিএনপি জুলাই স্পিরিট ধারণ করে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে এবং সম-অধিকারে বিশ্বাস করে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক দায়িত্ব যাদের কাঁধে ছিল, তারা কেন আন্দোলনে গুরুতর আহত ইনাম সিদ্দিকীর মতো ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে পারেনি, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে।”

এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই যোদ্ধা সংগঠন যশোর জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বুধবার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, যশোর জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে- লোকসমাজ

আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, জামায়াত নেতা আবুল হাশিম রেজা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা শাখার নেতা নুরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।