ডিসিদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

“জনপ্রশাসনের সব পদে কাজের মানসিকতা থাকতে হবে”

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, খাদ্যে ভেজাল রোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জোর দেন তিনি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পথিমধ্যে সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানালে তিনিও হাত নেড়ে সাড়া দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের সক্রিয় থাকতে হবে। মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম বাড়াতে হবে। জনগণের অভিযোগ দ্রুত ও গুরুত্বসহকারে নিষ্পত্তি করতে হবে
সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, খাদ্যে ভেজালকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সব জেলায় বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে-শুধু শীতকালেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।

বন্যা ও খরা মোকাবিলায় ডিসিদের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনকেই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে পদোন্নতি ও বদলির মূলনীতি।” তিনি আরও সতর্ক করেন, পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্ব বিসর্জন দিলে তা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করে।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে। অপেশাদার মনোভাব দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাই সরকারের সঙ্গে জনগণের মূল সংযোগ। তাদের সততা ও দক্ষতার ওপরই সরকারের সফলতা নির্ভর করে।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হয় তা প্রমাণ হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল প্রশাসন ও চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট অধিবেশন হচ্ছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীগণ সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে।