বায়ুমণ্ডলে প্লাস্টিক কণা, বদলে যেতে পারে বৃষ্টির ধরন

0

লোকসমাজ ডেস্ক: প্লাস্টিক দূষণ এখন আর শুধু মাটি, নদী বা সমুদ্রে সীমাবদ্ধ নেই—এটি পৌঁছে গেছে বায়ুমণ্ডলেও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে ভাসমান প্লাস্টিক কণা মেঘের গঠন পরিবর্তন করছে, যার ফলে বদলে যেতে পারে বৃষ্টিপাতের ধরন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মেঘের গঠনে প্লাস্টিকের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি-এর একদল গবেষক প্লাস্টিক কণার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Environmental Science & Technology: Air-এ।
গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের প্লাস্টিক কণা জলবিন্দুকে দ্রুত বরফে পরিণত হতে সাহায্য করে। সাধারণত বিশুদ্ধ জলবিন্দু জমাট বাঁধতে খুব কম তাপমাত্রা প্রয়োজন হলেও, প্লাস্টিক কণাযুক্ত জলবিন্দু তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায়ও বরফে পরিণত হতে পারে।
তাপমাত্রা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিশুদ্ধ জলবিন্দু জমাট বাঁধে প্রায় -৩৮° সেলসিয়াসে
প্লাস্টিক কণাযুক্ত জলবিন্দু জমে যেতে পারে প্রায় -২২° সেলসিয়াসে
অর্থাৎ ৫–১০ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রাতেই বরফ গঠন সম্ভব
এতে বোঝা যায়, প্লাস্টিক কণা বরফ তৈরির প্রক্রিয়ায় ‘সহায়ক’ হিসেবে কাজ করছে।
মেঘে প্লাস্টিকের উপস্থিতি
গবেষকরা মাউন্ট তাই এবং মাউন্ট ফুজি-এর ওপরের মেঘ থেকে সংগৃহীত জলকণায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।
এ থেকে প্রমাণ মিলেছে—প্লাস্টিক কণা এখন বায়ুমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির ধরনে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
গবেষণা বলছে—
বাতাসে বেশি কণা থাকলে মেঘে ছোট ছোট জলবিন্দু তৈরি হয়
এসব ছোট কণার বৃষ্টিতে পরিণত হতে বেশি সময় লাগে
ফলে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে
পরে বৃষ্টি হলেও তা হয় হালকা, ভারী নয়
মিরিয়াম ফ্রিডম্যান-এর মতে, এই প্রক্রিয়া বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে দিতে পারে এবং খরার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কোন কোন প্লাস্টিক পাওয়া গেছে?
গবেষণায় চার ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে—
পলিথাইলিন (PE)
পলিপ্রোপাইলিন (PP)
পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC)
পলিথাইলিন টেরেফথালেট (PET)
এসব প্লাস্টিক জলকণার সঙ্গে মিশে বরফ তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
প্লাস্টিক কণা আসে কোথা থেকে?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলে প্লাস্টিক কণা ছড়ায়—
টায়ারের ক্ষয় থেকে
সিন্থেটিক কাপড়ের তন্তু থেকে
শহর ও শিল্পাঞ্চলের প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে
মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
প্লাস্টিক কণা শুধু পরিবেশ নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে—
ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে
প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে
জলবায়ুর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
বিজ্ঞানীদের মতে—
বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে
খরার প্রকোপ বাড়তে পারে
জলবায়ু পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে
তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।