কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া হয়নি, ছিল জলাতঙ্কে আক্রান্ত: তদন্ত কমিটি

0
কুকুরের দিয়ে এগিয়ে আসছে কুমির। এরপরই কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায় কুমির।। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়নি, বরং সেটি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে গিয়েছিল। এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মৃত কুকুরটি প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।

গত ৮ এপ্রিল দিঘির প্রধান ঘাটে একটি কুকুরকে কুমির টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, কুকুরটিকে টোপ হিসেবে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ওই কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানান, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন জানান, কুকুরটি মাজার এলাকায় একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছিল। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকানসহ আক্রান্তরা ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরির (সিডিআইএল) ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কুকুরটির জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, কুমির হিংস্র প্রাণী হওয়ায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই টিকা নিশ্চিত করতে হবে।