ভয়ঙ্কর ডেল্টা-ওমিক্রন পার হয়ে মৃত্যুহীন বাংলাদেশ

0

জাকিয়া আহমেদ॥ টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (১৬ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৭ মার্চ সকাল ৮টা) করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে কেউ মারা যায়নি। এর আগে গত ১৬ মার্চ এবং ১৫ মার্চেও করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। ১৫ মার্চের আগে বাংলাদেশ সর্বশেষ মৃত্যুহীন দিন দেখেছে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর। অর্থাৎ প্রায় তিন মাস পর গত ১৫ মার্চে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু ছিল না।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। তার ঠিক ১০ দিন পর করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যুর কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালের ১৮ মার্চে প্রথম মৃত্যুর পর ২৫ মে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ অতিক্রম করে। সে বছরের ১০ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক হাজার ছাড়ায়। ওইদিন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ১২ জন। এর ১২ দিন পর ২২ জুন মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার অতিক্রম করে। সেদিন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৫০২ জন। দেড় হাজার অতিক্রম করার ১২ দিন পর ৪ জুলাই পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৯৯৭ জন। আর স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ হাজার ১১২ জন।
দেশে মহামারির প্রথম বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা যায় সাত হাজার ৫৫৯ জন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এ মহামারির সংক্রমণে বিভিন্ন সময়ে ওঠানামার চিত্র দেখেছে দেশ। তবে গত বছরের মে জুনের দিকে ডেল্টার তাণ্ডবে মহামারি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে যেখানে মারা যায় ৫৬৮ জন সেখানে এপ্রিলে মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার ৪০৪ জন। এর মধ্যে ১৫ এপ্রিলে মৃত্যু ছাড়িয়ে যায় ১০ হাজার। পরের দিন ১৬ এপ্রিল দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একদিনে মৃত্যু ছাড়িয়ে যায় ১০০ জনের বেশি। সেদিন অধিদফতর ১০১ জনের মৃত্যুর কথা জানায়।
মে মাসে এক হাজার ১৬৯ জন, জুনে এক হাজার ৮৮৪ জন, জুলাইতে মারা যায় ছয় হাজার ১৮২ জন। আর এ মাসেই দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ২৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আগস্টে মারা যায় পাঁচ হাজার ৫১০ জন। আর এই আগস্ট মাসেই দেশে মহামারিকালে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিন দেখেছে বাংলাদেশে। গত পাঁচ এবং ১০ আগস্ট দুইদিনই ২৬৪ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে সেপ্টেম্বরে চার অঙ্কের মৃত্যু হলেও সেটা কমে এক হাজার ৩১৫ জনের মৃত্যু হয়। যদিও এ মাসেই মৃত্যু ছাড়িয়ে যায় ২৭ হাজার। পরের মাস থেকেই মৃত্যু নেমে আসে তিন অঙ্কের ঘরে। অক্টোবরে মারা যায় ৩৫৮ জন, নভেম্বরে ১১৩। তবে প্রায় ২০ মাস পর ২০ নভেম্বর অধিদফতর একটি মৃত্যুহীন দিনের কথা জানায়, সেদিন মৃত্যু ছিল শূন্য। ডিসেম্বরে মারা যায় ৯১ জন। এর মধ্যে ৯ ডিসেম্বরও মৃত্যুহীন দিন ছিল বাংলাদেশের। ভয়ঙ্কর ডেল্টার তাণ্ডবের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। আর এর কারণ ডেল্টার চাইতেও বিধ্বংসী অতি সংক্রমণশীল ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। নভেম্বর মাসেই জিম্বাবুয়ে ফেরত দুই নারী ক্রিকেটার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আর এরই প্রভাবে ডিসেম্বরে দুই অঙ্কের মৃত্যু হলেও জানুয়ারিতে ফের তিন অঙ্কের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। সে মাসে মারা যান ৩২২ জন আর ফেব্রুয়ারিতে মারা যান ৬৪৩ জন। ওমিক্রনের তাণ্ডব নেমে আসার ধারাবাহিকতায় অবশেষে গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু নামে এক অঙ্কের ঘরে। সেদিন অধিদফতর ৯ জনের মৃত্যুর কথা জানায়। অবশেষে গত টানা তৃতীয় দিনের মতো করোনাতে আক্রান্ত হয়ে দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে, স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে। যদিও এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে অধিদফতর। স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার উপায় নেই জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন জানিয়েছেন, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। দীর্ঘদিন আমাদের এগুলো মেনে চলতে হবে। তার মতে, ভাইরাসের এখনও ইভোল্যুশন হচ্ছে। আবারও নতুন করে কোনও ভ্যারিয়েন্ট আসবে কিনা সে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।