উদ্বাস্তু জীবনের ৯ বছর: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের উল্লাস থাকলেও বড়দের চোখে বিষাদ

0
আনন্দ আর বিষাদের মিশেলে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। ১২ লাখ মানুষের একটাই প্রার্থনা—নিরাপদ প্রত্যাবাসন।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাখাইনের স্মৃতি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আরও একটি ঈদুল ফিতর পার করছেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে উৎসবের আমেজ থাকলেও তা ছিল কেবল শিশুদের মাঝে সীমাবদ্ধ। বড়দের চোখে-মুখে ছিল দেশান্তরী হওয়ার যন্ত্রণা আর স্বজন হারানোর গভীর বিষাদ।

সকাল ৮টার পর ক্যাম্পের ১ হাজার ৫৫০টি মসজিদ ও ১ হাজার ১৫০টি নূরানি মাদরাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মোনাজাতে শত শত মুসল্লি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা রাখাইনে হওয়া নির্যাতনের বিচার এবং সম্মান ও নিরাপত্তার সাথে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন। কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ মোস্তফা আক্ষেপ করে বলেন, “সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর ছিল, প্রতি ঈদে নামাজ শেষে জিয়ারত করতাম। ভিনদেশে সেই সুযোগ কই? এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে!”

ক্যাম্পের রাস্তায় নতুন পোশাক পরে শিশুদের হৈ-হুল্লোড় আর টেকনাফের লেদা-জাদিমুড়া এলাকায় বসা মিনি মেলায় নাগরদোলার আনন্দ দেখা গেলেও বড়রা ছিলেন নিশ্চুপ। ঝুপড়ি ঘরের অভাব-অনটন আর দীর্ঘ ৯ বছরের বন্দি জীবন তাদের ঈদ আনন্দকে ফিকে করে দিয়েছে। ২০১৭ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতির ভারে এখনও নুয়ে আছেন অনেকে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ৮ এপিবিএন-এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যাদের একটাই চাওয়া—আগামী ঈদ যেন তারা নিজ জন্মভূমি আরাকানে কাটাতে পারেন।