দেশে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব: শিশুদের উচ্চ জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

0
হাম মূলত ‘রুবেলা’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ।। ছবি: সংগৃহীত
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চমাত্রার জ্বর এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে অসংখ্য শিশু প্রতিদিন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জেলায় শিশুমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা অভিভাবক, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

হাম কী ও কীভাবে ছড়ায়?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম মূলত ‘রুবেলা’ নামক এক অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে সুস্থ শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রুবেলা ভাইরাসটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়, যার ফলে আক্রান্ত শিশু খুব সহজেই অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।

জটিলতা ও ঝুঁকি:

হামের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়। তবে এর জটিলতা আরও ভয়াবহ হতে পারে। হামের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা, মুখে ঘা এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভিটামিন ‘এ’-এর মারাত্মক ঘাটতি, যা থেকে শিশু রাতকানা এমনকি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

টিকাদানের গুরুত্ব:

বাংলাদেশে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, ৮৮ শতাংশ শিশু এই দুই ডোজ গ্রহণ করেছে। তবে যারা এখনও এই টিকার বাইরে রয়েছে বা এক ডোজ নিয়েছে, তাদের মাধ্যমেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

অভিভাবকদের প্রতি চিকিৎসকদের পরামর্শ:
আলাদা রাখা: শিশুর জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে অন্তত পাঁচ দিন অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।

ভিটামিন এ: চিকিৎসকের পরামর্শে বয়স অনুযায়ী পরপর দুই দিন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
বিপদচিহ্ন: শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
পরিচর্যা: অসুস্থ অবস্থায় শিশুর স্বাভাবিক খাবার ও পানীয় বজায় রাখা জরুরি।