জ্বালানি আমদানিতে কূটনৈতিক সাফল্য; হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ থাকবে বাংলাদেশের জাহাজ

0
সরকারের বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিয়ে তেহরান আশ্বস্ত করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও বাংলাদেশের জন্য আশার আলো দেখিয়েছে ইরান। সরকারের বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিয়ে তেহরান আশ্বস্ত করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই নৌ-করিডরে প্রবেশের আগেই জাহাজের তথ্য ইরানকে জানানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে করে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া তাৎক্ষণিক উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। যেমন, ‘ভিটল এশিয়া’ ইতিমধ্যে একটি অকটেন চালান বাতিল করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন বিকল্প উৎস থেকে ‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি’ বা ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) ব্যবহার করে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি জাহাজ— ‘লিয়ান হুয়ান হু’, ‘এসপিটি থেমিস’, ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ মোট ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন জ্বালানি নিয়ে বন্দরে ভিড়বে। এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল দিয়ে আগামী অন্তত ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, সংকটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারত ও চীন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে বিদ্যমান চুক্তির বাইরেও অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক বৈঠকে জানিয়েছেন, বেইজিং প্রয়োজনে ঢাকাকে সব ধরনের জ্বালানি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত ১৪ দিনের এবং অকটেনের মজুত ২৫ দিনের থাকলেও, আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ কাজ নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকদের সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।