শার্শায় শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলায় ক্ষতি

0

আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর)॥ যশোরের শার্শা উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে ধানের চারাগুলো কোল্ড ইনজুরির শিকার হয়ে হলুদ ও লালচে বর্ণ ধারণ করছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক চারার বৃদ্ধি থমকে গেছে। আবার কোথাও কোথাও চারা মরে পচে যাচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, কনকনে শীত থেকে চারা বাঁচাতে চাষিরা নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। কেউ দিনে কয়েকবার বীজতলার পানি পরিবর্তন করছেন, কেউ সালফার জাতীয় ওষুধ ছিটানো বা ছাই ব্যবহার করছেন। রাতের বেলা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রেখেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।

রুদ্রপুর গ্রামের কৃষক নায়েব আলী কাজি জানান, শীতের তীব্রতার কারণে তার বীজতলা নষ্ট হতে শুরু করেছে। একই সংকটের কথা জানিয়েছেন বাগআঁচড়া ও কায়বা অঞ্চলের কৃষকরা।

তারা জানিয়েছেন, এ বছর ঠেঙামারী বিলের পানি আগেভাগেই নেমে গেছে। ফলে কৃষকরা ধান লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বীজতলার কারণে জমিতে ধান লাগাতে বিলম্ব হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শার্শায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১,১৭৫.৫ হেক্টর বীজতলা প্রয়োজন। ঘন কুয়াশার কারণে এ পর্যন্ত মাত্র ৯৪০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি সম্ভব হয়েছে। তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলেই চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে যশোরের তাপমাত্রা অনেক ক্ষেত্রে ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যাচ্ছে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিআর-৫০, ৬৩, ৮৮ এবং বিনাধান-২৫সহ বিভিন্ন জাতের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বীজতলায় নিয়মিত সেচ দেওয়া, সকালে কুয়াশা ঝরিয়ে দেওয়া, রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা ও আক্রান্ত জমিতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে এ ক্ষতি কমানো যায়।