গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে যশোরে বিক্ষোভ, মসজিদে দোয়া

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুক্তিভঙ্গ করে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরে জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহরের প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রতিবাদ বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে হবে, যেন তারা এ বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এসময়ে ‘ইসরাইল নিপাত যাক’, ‘ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর বর্বরতা বন্ধ করো’, ‘আমরা ফিলিস্তিনের পাশে আছি’ এমন নানা স্লোগানে গর্জে ওঠেন তারা।

এসময় বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির জেলা সংগঠক কামরুল ইসলাম শিহাব, আমান উল্লাহ, সাজিদ সারোয়ার ও এসকে আসিফ সোহান।

একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক রাশেদ খানের নেতৃত্বে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বুপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে প্রাচ্যসংঘ যশোর আয়োজিত ‘বিশ্ব মানবতার কবরস্থান গাজা’ শীর্ষক লেখক গবেষক বেনজীন খানের একক বক্তৃতায় অংশ নেন।

এসময় একক বক্তৃতায় বেনজীন খান বলেন, গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত বর্বর হামলা হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরুদ্ধে গোটা মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

এসময় তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে গাজায় যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চলছে তা ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ সারা পৃথিবীর মুসলমানরা এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। এটি মুসলামান জাতির জন্য খুবই লজ্জাজনক।

এ সময় তিনি নৃশংস এ বর্বরতার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের মুসলমানদের ফুঁসে ওঠার আহবান জানান।
এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে যশোর শহরের প্রতিটি মসজিদে দোয়া হয়। খুৎবার আলোচনাতেও ফিলিস্তিনি বর্বরতার বিষয়টি তুলে ধরেন ইমামরা। জেলা ইমাম পরিষদের নেতা হাফেজ মাওলানা বেলায়েত হোসেন বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলের হামলা ও হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে প্রতিটি মসজিদে দোয়া করা হয়। দোয়া ছাড়াও খুৎবার আলোচনায় গুরুত্ব পায় ফিলিস্তিন ইস্যু।

এসময় মসজিদের ইমামরা জুমার নামাজপূর্ব আলোচনায় বলেন, ফিলিস্তিনি বর্বরতা প্রতিনিয়তই বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটা শুধু যুদ্ধ নয়, এটি এক ধরনের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। মুসলিম উম্মাহর উচিত একত্রিত হয়ে গাজার নিরীহ মানুষদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। আমরা চাই বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা হোক। শুধুমাত্র দোয়া নয়, বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুসলিম বিশ্বের উচিত একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানো।

নামাজ শেষে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর ইসরায়েলের বর্বর হামলার প্রতিবাদে দোয়া করা হয়। ফিলিস্তিনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে মুানাজাত করা হয়। এসময় মুসল্লিরা দোয়া করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।