নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৮ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

যবিপ্রবির হলে রাতভর ছাত্র নির্যাতনের মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের আবাসিক হলে শাহরীন রহমান নামের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সোহেল রানাসহ আট নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই এজাজুল হক সম্প্রতি আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত সকলেই যবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, মনিরামপুর উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার হুদাদূর্গাপুর গ্রামের মোশাররেফ হোসেনের ছেলে ইছাদ হোসেন, মনিকগঞ্জ সদরের সাহারাইল গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে শাহিনুর ইসলাম, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ফতেরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোসাইলপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন, কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলার মৌজাখান মন্ডলপাড়ার আমিন শেখের ছেলে বিপুল শেখ ও নাটোরের বাগতিপাড়ীর নওপাড়ার সুজাত আলীর ছেলে আশিকুজ্জামান। অভিযুক্তরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকার্মি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শাহরীন রহমান যবিপ্রবি’র ফিজিক্যাল এ্যাডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সাইন্স বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। ২০২৪ সালের ৩ জুন বিকেলে শাহরীনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলছিলেন ।

এ সময় খেলাকে কেন্দ্র করে দুইজন সিনিয়রের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে একজন আরেকজনকে ঘুসি মারেন। মারামারি কারণে ফুটবল খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শাহরীন তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের কদমতলায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম।

এ সময় আসামি শাহিনুর ইসলাম সেখানে গিয়ে শাহরীনকে মারধর করলে তিনি জখম হন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শাহরীন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিনুর রহমানসহ উল্লিখিত আসামিরা ৫ জুন গভীর রাতে শাহরীনকে তার কক্ষ থেকে ধরে আসামি হোসেল রানার কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। সেখানে আসামিরা কক্ষের দরজা বন্ধ করে মারধর করলে শাহরীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে আসামিরা শাহরীনকে কক্ষের বাইরে ফেলে রেখে চলে যান। কিছু সময় পর শাহরীনের জ্ঞান ফিরে এলে তিনি তার কক্ষে গিয়ে বিষয়টি বন্ধুদের জানান।

এরপর বন্ধুরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরেএ ঘটনায় শাহরীন কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।