যশোরে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে নেমেছে পুলিশ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুলিশ সুপারের নির্দেশে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি দল শহরের মুজিব সড়ক ও দড়াটানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা তুলে দেয়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদ নিজে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের বলেছিলেন। কিন্তু এরপরও অনেক অবৈধ দখলদার বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ ফের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানে নামে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফুটপাত পথচারীদের জন্য নির্বিঘ্ন করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যশোর শহরের তীব্র যানজটের কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ বিভিন্ন সভায় আলোচনা হয়। এর প্রধান কারণ হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা বা দোকান বলে চিহ্নিত হয়। এরপরই পুলিশ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পদক্ষেপ নিচ্ছে।


কোতয়ালি থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, যশোর শহরকে যানজটমুক্ত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার রাতে যশোরের পুলিশ সুপার সরেজমিনে মুজিবসড়ক, দড়াটানা এলাকা, কাপুড়িয়াপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ফুটপাত দখলে রাখা ব্যবসায়ীদের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। এসপির নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু ব্যবসায়ী তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে গেলেও অনেক ব্যবসায়ী তাদের স্থাপনা রেখে ব্যবসা করতে থাকেন। সেগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, যশোর শহরকে যানজটমুক্ত করতে আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি এটি চলমান থাকবে। এক্ষেত্রে আমরা ব্যবসায়ীদের বলবো তারা স্ব উদ্যোগে তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে যাক। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রয়োজনে পুলিশ কঠোর হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত দখল করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসা করে আসছেন। এসব দোকান থেকে রাজনৈতিক সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভাড়া তুলে খাওয়ারও নজির রয়েছে। আবার কোনো কোনো সময়ে সমালোচনার মুখে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হলেও পরবর্তীতে আবার দখল হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ায় সেটি কতটা বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।