ঝিকরগাছায় বিএনপির তিন নেতা-কর্মী হত্যায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী মিন্টু প্রকাশ্যে

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ ঝিকরগাছায় বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপির তিন নেতা কর্মীকে হত্যার মূল হোতা সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা মিন্টু এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন.উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী, একই ইউনিয়নের সাদিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন ও বিএনপি কর্মী আলমগীর হোসেন। ইতেমধ্যে ডিলার খুনি মিন্টু তার দলবল নিয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব চাল উঠিয়ে নিজের ইচ্ছামত ভাগবন্টন করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে বিগত সরকারের আমলে হত্যাকান্ডের শিকার এসব পরিবারের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিচার দাবিও করেছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা মিন্টুর ছোড়া বোমার আঘাতে ১৬ নভেম্বর ২০০৯ সালে নিহত হন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান শওকত আলী। এর আগে একই বছরের ১ জুন মিন্টু গাছিদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সাদিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদৎ হোসেনকে। এছাড়া হাজিরবাগ গ্রামের বিএনপিকর্মী আলমগীর হোসেনকেও খুনি মিন্টু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হত্যা করে।
পৃথক এসব ঘটনায় খুনি মিন্টু, ও তার চাচাতো ভাই পিন্টু ও সোহাগের নামে হত্যা মামলা হলেও ঝিকরগাছা থানা পুলিশ কয়েকবার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। পরে হত্যাকান্ডের শিকার এসব পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকবার নারাজি পিটিশন দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শওকত আলীর ছেলে রফিকুল আলম মুকুল বলেন, পিতার হত্যাকান্ডের পর থানা পুলিশ দ্বারা অসংখ্যবার হেনস্তা হয়েছি। পুলিশ বারবার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার নাজারি পিটিশন দেওয়া হয়েছে। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীনের পর তার পিতার খুনি মিন্টু ও তার দোসররা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক খাদ্যবান্ধব চাল উঠিয়ে নিজের ইচ্ছামত ভাগ-বণ্টন করা দেখে হতবাক হয়েছেন তিনি।
বিএনপি নেতা শাহাদত হোসেনের একমাত্র পুত্র ইউরোপ প্রবাসী রায়হান সেলিম বলেন, কয়েকবার নারাজি পিটিশন দেওয়া হয়েছিল। পরে সন্ত্রাসীরা তার মাকে একমাত্র ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল।
হাজিরবাগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, দক্ষিণ ঝিকরগাছায় সে সময় একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। কয়েকবার নারাজি দেওয়ার পর সন্ত্রাসীদের ভয়ে আলমগীরের পরিবার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। জানতে চাইলে নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ শওকত আলীর ছোট ভাই লিয়াকত আলী সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে জানিয়েছেন, ভাইয়ের মত তিনিও জীবনের ঝুঁকিতে ছিলেন। সন্ত্রাসীরা তিনজনকে হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, লুটতরাজ করেছিল। সন্ত্রাসীদের ভয়ে সেসময় কেউই মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এখনো প্রকাশ্যে খুনি মিন্টুর নামে থাকা খাদ্যবান্ধব ডিলার বাতিল ও তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিয়াকত আলী।