চৌগাছায় প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে মামলা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী রেক্সোনা বেগমকে মুখ বেঁধে তার ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী ৬ জনকে আসামি করে বুধবার আদালতে মামলা করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সালমান আহমেদ শুভ অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন-বল্লভপুর গ্রামের মৃত আকবর ফকিরের ছেলে নাজিম ফকির, তার স্ত্রী রেখা বেগম ও ছেলে রিওন ফকির, জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম, মেয়ে পিংকি খাতুন ও আব্দুস সাত্তারের ছেলে সেলিম হোসেন। অপরদিকে ভুক্তভোগী রেক্সোনা বেগম একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, রেক্সোনা বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম বেশ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। গ্রামের বাড়িতে ১টি মেয়ে, ১টি ছেলে ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে বসবাস করেন রেক্সোনা বেগম। স্বামী বাড়িতে না থাকায় আসামি নাজিম ফকির তাকে উচ্ছেদের জন্য অন্য আসামিদের সহায়তায় তাকে কারণে অকারণে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। এমনকী আসামি নাজিম ফকির তাকে কুপ্রস্তাবও দেন। রেক্সোনা বেগম কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আসামি নাজিম ফকির বিভিন্ন সময় তার বাড়ির ছাদে ও বারান্দায় ইট নিক্ষেপসহ পানি ও ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করে থাকেন। গত ২২ মে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উল্লিখিত আসামিরা রেক্সোনা বেগমের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় রেক্সোনা বেগমকে ঘরে একা পেয়ে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর ও তার শ্লীলতাহানি ঘটান আসামি নাজিম ফকির। রেক্সোনা বেগম চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে অন্য আসামিরা ঘরের ভেতর ঢুকে গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর তারা চুলের মুঠি ধরে টানা হেঁচড়া করে তাকে বাড়ির উঠানে এনে ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তার তলপেটে লাথি মারা হয়। এছাড়া আসামিরা তার কাছে থাকা চাবি ছিনিয়ে নিয়ে শো-কেসের তালা খুলে নগদ দেড় লাখ টাকা ও ২ ভরি ওজনের সোনার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যান। এরই এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে রেক্সোনা বেগমের মুখের বাঁধন খুলে যায়। তখন তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যান। পরে আহত রেক্সোনা বেগম চৌগাছা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।