‘হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে’ টিপুকে হত্যা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুর আস্থাভাজন রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবুকে হত্যা করা হয়। আর সেই হত্যা মামলায় আসামি করা হয় মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮) এবং মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে (৫১)। সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে আরেক সন্ত্রাসী মুসা; যিনি তালিকাভুক্ত শীর্ষসন্ত্রাসী প্রকাশ-বিকাশের সহযোগী বলে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে মামলাটির গতি চলমান থাকায় ‘ফাঁসি হতে পারে’ এমন শঙ্কা থেকে তারা টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারীসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো— মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৫২), নাসির উদ্দিন ওরফে কিলার নাসির (৩৮), সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫১)। এসময় তাদের কাছ থেকে থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় নজরদারির কাজে ব্যবহার করা একটি মোটর সাইকেল এবং হত্যার জন্য দেওয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডের পর মামলাটি চলমান রাখার জন্য জাহিদুল ইসলাম টিপু সবসময় খোঁজ-খবর রাখতো। তার আরেক বিশ্বস্ত কালাম এ মামলার সাক্ষী ছিল। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক, কিলার নাসির, শুটার সালেহ ও কাইল্লা পলাশ মিলে বিভিন্ন সময় কালামকে সাক্ষী না দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তারা সন্ত্রাসী মুসার সহায়তায় টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।’ কমান্ডার আল মঈন আরও বলেন, ‘ওমর ফারুক ও কাইল্ল্যা পলাশের নেতৃত্বে টিপুকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন মানববন্ধনের আয়োজন করে। জাহিদুল ইসলাম টিপু মিল্কি হত্যার সাথে পরিকল্পনায় জড়িত বলেও তারা দাবি করে আসছিল। কিন্তু মামলাটিতে টিপুর নাম বাদ পড়লে তারপর তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ থেকে যায়। ২০১৬ সালে টিপুর বিশ্বস্ত লোক রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবুকে হত্যা করা হয়। এলাকায় স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে ওমর ফারুক নাসির পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসার মাধ্যমে শুটার ঠিক করে। তারা টাকা দিয়েও কালামকে ম্যানেজ করতে পারেনি। টিপু সবসময় কালামের সঙ্গে থাকতো। এর ফলে মামলাটিতে যখন কোনও কিছু করতে পারছিল না, তখন বিদেশ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়— কালামকে যেন টিপুর পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা না করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হতো কাইল্লা পলাশের।