কিয়েভ দখলে নিচ্ছে রাশিয়া?

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ রাশিয়া কি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলে নিচ্ছে? চারদিকে এই মুহূর্তের আলোচনা এ প্রশ্নকে ঘিরে। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমও সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউক্রেনজুড়ে আতঙ্ক। আতঙ্ক পশ্চিমাদের মধ্যেও। কিয়েভের মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কারণ, রাজধানীর চারপাশে যেভাবে রাশিয়া সামরিক অস্ত্রশস্ত্রের সমাবেশ ঘটাচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট- বড় আকারের কোনো অপারেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। এরই মধ্যে তারা একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে মারিউপোলে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন কমপক্ষে ৮০ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কতজন হতাহত হয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাজধানী কিয়েভে এখন হিম আতঙ্ক। অল্প সংখ্যক যা-ওবা মানুষ আছে, তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বিবিসির কিয়েভ প্রতিনিধি জেমস ওয়াটারহাউজ লিখেছেন, কিয়েভে শব্দের পর শব্দ। আশপাশেই ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে রাস্তা মেরামত করছেন শ্রমিকরা। এর থেকে কিছুটা উত্তরেই পরপর বোমা বিস্ফোরণের শব্দ। ওই অঞ্চলেই রাশিয়ান সেনারা জমায়েত হয়েছে। বলা হচ্ছে, সেখানে তারা আগের চেয়ে সংখ্যা এবং অস্ত্রে সমৃদ্ধ হয়েছে। বৃটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ান বাহিনীর বেশির ভাগ সেনা এখন কিয়েভের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রাশিয়ানরা কিয়েভের ওপর পূর্ণ মাত্রায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এই শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। একই ঘটনা দেখা যাচ্ছে ইউক্রেনের অন্য স্থানগুলোতেও। তবে তা করার সক্ষমতা ইউক্রেনে অবস্থানরত রাশিয়ান সেনাদের আছে কিনা তা পরিষ্কার নয়। রাজধানী কিয়েভ এবং অন্য শহরগুলোতে রাশিয়ানরা তীব্র বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা শহরের যত ভিতরে প্রবেশ করবে, এই বাধা তত বেশি হবে। জেমস ওয়াটারহাউজ লিখেছেন, এই শহরের কেন্দ্রস্থলে আপনি এলে মেরামতের শব্দ শুনতে পারেন, যদিও সব জায়গায় বিশৃংখল এক অবস্থা বিরাজ করছে। কখনো মনে হবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ওদিকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে কিয়েভের দক্ষিণে ইউক্রেনের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে। ভাসিলকিভের মেয়র বলেছেন, এই হামলায় একটি রানওয়ে এবং জ্বালানি ডিপো ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণের ফলে আগুন ধরে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বিমানঘাঁটি থেকে ঘন কালো ধোয়া আকাশে উঠে যাচ্ছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের অন্য স্থানগুলো, চোরনিভ সহ সব জায়গায় হামলা জোরালো করা হয়েছে। শহরে পানি সরবরাহ নেই। অনেক অংশে নেই বিদ্যুত। রাশিয়ার দখল করে নেয়া খারসন ও ইউক্রেনের তৃতীয় বৃহৎ শহর ওডেসা’র মধ্যে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর মিকোলাইভেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে একটি ক্যান্সার হাসপাতালেও আঘাত করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ওই হাসপাতালে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।