ইরানকে ‘অকথ্য’ গালিগালাজ ও হামলার হুমকি; ট্রাম্পের ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন রাজনীতিকদের

0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেক শীর্ষস্থানীয় মার্কিন রাজনীতিক এখন তাঁর ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ইরানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ‘নরকযন্ত্রণার’ হুমকি দেন। তিনি সরাসরি ঘোষণা করেন, “আগামীকাল মঙ্গলবার হবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন।” এমনকি পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে না দিলে দেশটিতে এমন ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দেন যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।

ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহেদি তাবাতাবায়ি একে প্রেসিডেন্টের ‘হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত এই সমুদ্রপথ খোলা হবে না।

এদিকে, ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক কট্টর ট্রাম্প সমর্থক মার্জোরি টেলর গ্রিন এই পরিস্থিতিকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও চাক শুমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির প্রলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় ও ন্যাটো মিত্ররা এই যুদ্ধে মার্কিন পক্ষ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প এখন ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ারও হুমকি দিচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আগামীকালের নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্ব উৎকণ্ঠায়।