শৈলকুপায় ঘরে ঘরে গৃহিণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমড়াবড়ি তৈরির কাজে

0

মফিজুল ইসলাম, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) ॥ শৈলকুপা উপজেলায় ঘরে ঘরে চলছে কলাই আর চালকুমড়া দিয়ে বড়ি তৈরির কাজ। গ্রামের প্রায় বাড়ির চালে ও মাচাই শোভা পাচ্ছে বড়বড় চাল কুমড়া, যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে কুমড়াবড়ি। শীতের ভোরে গৃহিণীরা ব্যস্তসময় পার করছেন বড়ি তৈরির কাজে। কেউ কাজ করছেন ঢেঁকিদিয়ে, কেউবা সাহায্য নিচ্ছেন শিলপাটার। এক কথায় কুমড়াবড়ি তৈরির ধুম পড়েছে গ্রাম এলাকার পাড়ায় পাড়ায়।
বড়ি তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত কালাইয়ের ডালের সঙ্গে চালকুমড়ার পরিবর্তে অনেকে মূলা অথবা পেঁপে ব্যবহার করে থাকেন। শীত এলেই গ্রামাঞ্চলের লোকজন বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পাড়ার অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে বড়ি বানান। মূলত শীতের মৌসুমে কুমড়া বড়ির বাজার ধরতে আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ এই তিন মাস কুমড়াবড়ি তৈরি করা হয়। ২-৩ দিন কড়া রোদে শুকিয়ে প্রস্তত করা হয় সুস্বাদু এই বড়ি। উপজেলার কবিরপুর গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন,শীতে বড়ি ছাড়া তরকারি রান্না অপূর্ণ থেকে যায়, বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। এছাড়া, বড়ি দিয়ে রান্না করা বেগুন, লাউ, ফুলকপি, আলুর তরকারির স্বাদই আলাদা। তাই শীতের আগমনে আমরা বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। গাড়াখোলা গ্রামের ওয়াহিদ হাসান জানান, ৩০ বছর যাবত এই কাজের সাথে জড়িত। মেশিনে কুমড়াবড়ি তৈরি করি। ডাল ও মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় কুমড়াবড়ি তৈরিতে খরচ বেশি পড়ছে ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন আমার মেশিনে ৩০০ কেজি বড়ি তৈরি হয়। এই বড়ি তেরি করতে আমার খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা আর বিক্রি হয় ৩৫ হাজার টাকা। আর প্রতিদিন ৩০ জন মহিলা শ্রমিক সকাল ৮ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত কাজ করে আর এদের প্রত্যেককে ৬০ টাকা কওে পারিশ্রমিক দেয়া হয়। সাধারণত পাইকারি ১৬০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হয়।