যশোর ইনস্টিটিউটের নির্বাচনে সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির নিরঙ্কুশ বিজয়

নবনির্বাচিত ২০ সদস্য আগামী তিন বছর ১৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৬৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোর ইন্সটিটিউট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন

0

স্টাফ রিপোর্টার,লোকসমাজ : যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন এ.জেড.এম সালেক স্বপন ও কাসেদুজ্জামান সেলিম নেতৃত্বাধীন ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’। ২০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ প্যানেল থেকে ১৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বাকি ৩ জন।
নবনির্বাচিত ২০ সদস্য আগামী তিন বছর ১৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৬৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোর ইন্সটিটিউট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা প্রশাসক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

jashore institiut election
শুক্রবার যশোর ইন্সটিটিউটের নির্বাচনে ভোট দিতে যান জেলার জেষ্ঠ্য রাজনীতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক নার্গিস বেগম- লোকসমাজ

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসাইন ফল ঘোষণা করেন।
ফলাফলে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’র প্রার্থী কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৮৮ ভোট পেয়েছেন। ৩ হাজার ২৯ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ২৭৭ জন ভোট দেন।
নির্বাচিত অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল প্রাপ্ত ভোট ১,১৭১- প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
এ.জেড.এম সালেক (স্বপন) প্রাপ্ত ভোট-১,১৫৩ প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
অধ্যাপক ইবাদত আলী- প্রাপ্তভোট- ১,১৩৬, প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
সৈয়দ শাহাজাহান আলী (খোকন) -১,১৩৩- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
সানোয়ার আলম খান দুলু – প্রাপ্ত ভোট-১,১০৫ -প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
ড. শাহনাজ পারভীন- প্রাপ্ত ভোট- ১,১০১ -প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
জিল্লুর রহমান মানিক- প্রাপ্ত ভোট- ১,০৯১প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
নাসির উদ্দীন মিঠু, প্রাপ্ত ভোট- ১,০৭০ প্যানেল- পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ,
মাহমুদ হাসান বুলু (অ্যাডভোকেট), প্রাপ্ত ভোট ১,০৬৮ প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
শেখ জুলফিকার আলী,-প্রাপ্ত ভোট- ১,০৫৩- প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন- প্রাপ্ত ভোট- ১,০৩৭,-প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
এমরান সাদিক- প্রাপ্ত ভোট- ১,০২৬ -প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
আনিসুজ্জামান পিন্টু- প্রাপ্ত ভোট-১,০০৬- প্যানেল- পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ,
এস.এম মুস্তাফিজুর রহমান কবির- প্রাপ্ত ভোট ৯৯৫-প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
অ্যাডভোকট আবুল কায়েস- প্রাপ্ত ভোট ৯৮২ প্যানেল- সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
আলমগীর হোসেন- প্রাপ্ত ভোট ৯৮০-প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
হাচিনুর রহমান প্রাপ্ত ভোট-৯৭৯ -প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাবু -প্রাপ্ত ভোট ৯৪৪ -প্যানেল সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি,
হাবিবুর রহমান রুবেল -প্রাপ্ত ভোট ৮৬৬ প্যানেল- পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ।
বিজিত্য ২২ প্রার্থী ও প্রাপ্ত ভোট-
নাছিম উদ্দিন খান ৮৬১, মনজুর কাদের মঞ্জু ৮৩৯,অজয় দত্ত ৮৩৮, আক্তারুজ্জামান ৮৩৫, শারমিন সুলতানা (সাথী) ৮২৩, মতাজ খাতুন ৮২০, চঞ্চল কুমার সরকার ৮০৮, এস এম তোজাম্মেল হক ৭২৬, ফেরদৌস হোসেন আলমগীর ৭২৩, তরিকুল ইসলাম ৭১৬, আবুল কালাম আজাদ (মামুন আজাদ) ৭১৩, আবুল হাসিম রেজা ৭১২, সালমান হোসেন ৬৮২, বদরুজ্জামান ৬৭৪, শাহাবুদ্দীন ৬১৩, জাকির হোসেন ৫৮৬, নূর-ই-আলী-নূর-মামুন ৫৪৩, শেখ সাদী হ্যাভেন ২৪৩, জুবায়ের হোসেন ২৩৮, মাহবুবুর রহমান ২১৬, এম. নূরুন নবী ১৮২ ও হাসেম আলী ১৭০ ভোট।
দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ২১৬ ভোট ও এম. নূরুন নবী ১৮২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টাউন হল চত্বরের ৩টি কেন্দ্রের ৪৫টি বুথে ভোট নেওয়া হয়। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন।
প্রায় দুই শতাব্দির প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন জেলার সামাজিক স্তরে মর্যাদাপূর্ণ। যারা এবছর নির্বাচন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ প্যানেলে একটি রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামীর আধিপত্য ছিল। তবে তারা কেউ-ই নির্বাচিত হতে পারেননি। এছাড়া জাসদ থেকে অ্যাডভোকট আবুল কায়েস ও বাসদ থেকে হাচিনুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।