বিশ্বকাপ ঘিরে যেন ‘লুটতরাজ’; ফাইনালের একটি টিকিটের দামই ২৮ কোটি টাকা

0
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দামে বিশ্বরেকর্ড ।। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো এক বছর বাকি থাকলেও, এর মধ্যেই টিকিটের দাম নিয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন এক ‘লুটতরাজ’। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনাল ম্যাচের মাত্র চারটি টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারির নিচতলায় গোলপোস্টের পেছনের এই আসনগুলোর আকাশচুম্বী দাম ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যের পেছনে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতি এবং রিসেল নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। ফিফা তাদের এই রিসেল প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ না করলেও প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায়। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেয় ফিফা। সেই হিসাবে এই চারটি টিকিট নির্ধারিত দামে বিক্রি হলে শুধুমাত্র কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার বেশি। শুধু ফাইনাল নয়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, সেমিফাইনালের টিকিটের দামও ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ফুটবলের এই বাণিজ্যিকীকরণের কড়া সমালোচনা করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল আনন্দ উৎসব যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।”

এদিকে আবাসন ও যাতায়াত খাতেও চলছে চরম অরাজকতা। ১৬টি আয়োজক শহরে হোটেলের কক্ষভাড়া গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকোতে একটি হোটেলের ভাড়া ১৫৭ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে। যাতায়াত খরচও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে; পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত মাত্র ৩০ মিনিটের ট্রেনভ্রমণের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট হলেও বিশ্বকাপের সময় তা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ ডলার। এমনকি নিউ জার্সিতে ফ্যান জোনে প্রবেশ করতেও দর্শকদের এবার গুণতে হবে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাপক সংকটে পড়েছেন এবং বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। ফিফার দাবি, এই মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে, তবে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি পকেট কাটার মহোৎসব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।