হুমকির মুখে মোংলা-ঘষিয়াখলী নৌপথ, সচল রাখতে প্রতিদিন ড্রেজিং

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ সচল রাখতে বেশ বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবি¬উটিএ)। প্রতিদিন ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখা হলেও মাটি ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে নদীর দুই পাশের মাঠঘাট, পুকুর ও খাস জমি ভরাট হয়ে গেছে। আবার ভরাট জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় মাটি ফেলার জায়গার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিআইডবি¬উটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মতিন বলেন, উজান থেকে প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন টন পলি মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথে আসে। এ কারণে নৌপথটি সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হয়। বর্তমানে প্রতিদিন চারটি ড্রেজার দিয়ে খননকাজ করা হয়। এতে বছরে খরচ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু সমস্যা হলো ড্রেজিং করা বিপুল পরিমাণ মাটি ফেলার জায়গা নেই। তিনি বলেন, সাধারণত নদীর তীর কিংবা কাছাকাছি স্থানে ডাইক (মাটি দিয়ে ঘেরাও করা স্থান) নির্মাণ করে ড্রেজিংয়ের মাটি ফেলতে হয়। এখন আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না, যেখানে ডাইক নির্মাণ সম্ভব। আগের ডাইকগুলোতে মাটি ফেলতে ফেলতে ৭-৮ ফুট উঁচু হয়ে গেছে। সেগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি আমরা। শুধু ড্রেজিং করে নৌপথটি বেশিদিন সচল রাখা সম্ভব হবে না এই কথা আগেই জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছিলেন, পলি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিষ্ণু ও দাউদখালী নদীর জোয়ার-ভাটার প¬াবন ভূমিতে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণের ফলে প¬াবন এলাকা কমে গেছে। পাশাপাশি উজান থেকে আসা মিঠাপানির প্রবাহও নদীতে কমে যাওয়ায় সমুদ্র থেকে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। এসব কারণে নৌপথটিতে মারাত্মকহারে পলি জমছে। বিআইডবি¬উটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুজ্জামান রকি বলেন, প্রতিদিন নৌপথে ড্রেজিং হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের মাটি যে জায়গায় ফেলা হচ্ছে সেটি রাতারাতি বিভিন্ন সংস্থা দখল করে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছি আমরা। নতুন করে জায়গা না পাওয়ায় খননকৃত মাটি ফেলা যাচ্ছে না। এ জন্য খননকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে নৌপথ। সরকারের উচ্চ মহলে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ও সচিব (ভারপ্রাপ্ত) কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে মোংলা বন্দরে সরকারের অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি, তা বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই নৌপথের খননকাজ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। একসময় পলি পড়তে পড়তে ২০১১ সালে নৌপথটি বন্ধ হয়ে যায়। নৌপথটি বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বেশ কয়েক বছর নৌযান চলাচল করতে হয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। একপর্যায়ে সুন্দরবনের ভেতরে শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারডুবির ঘটনায় নৌপথটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ পুনরায় খনন করে সচল করা হয়।