জীবননগরে পিটুনিতে মা ও ছেলে আহত,অভিযুক্ত বিজিবির অস্বীকার

0

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ॥ চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিজিবির পিটুনিতে মা-ছেলে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বিকেলে উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত মোমতাজ বেগম (৪৫) ওই গ্রামের মিনাজুল ইসলামের স্ত্রী ও তাদের ছেলে ইলিয়াস (২২)। মোমতাজ বেগম তার পরনের ছেড়া শাড়ি ও ব্লাউজ দেখিয়ে জানান, শনিবার বিকেলে তার মা মনজুরা বেগম তাদের প্রতিবেশী আব্দুর রহমানের ছেলে আনোয়ারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে সে তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে। এ ঘটনার পর দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হয়। পরে আনোয়ারের স্ত্রী আসমা স্থানীয় নতুনপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে মোমতাজ বেগমের নামে নালিশ দিলে, ওই দিন সন্ধ্যায় বিজিবি ক্যাম্পের ৮ সদস্য এসে মোমতাজ, তার দুই ছেলে ইলিয়াস ও শহিদকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। এ সময় মোমতাজের স্বামী মিনাজুল বাড়ি থেকে পালিয়ে রক্ষা পান। প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের সদস্য ইমাদ আলী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে বিজিবির এ ধরনের ঘটনা ন্যাক্কারজনক। সীমান্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীন মঈন বলেন, ‘সামাজিক বা পারিবারিক কোন বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিজিবির সদস্যরা কোনভাবেই সম্পৃক্ত হতে পারেন না। যদি বিজিবি কর্তৃক অসহায় দরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ ও তার ছেলেদেরকে মারধরের মত ঘটনা ঘটে থাকে তবে সেটা ঠিক হয়নি’। এ ব্যাপারে নতুনপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল হামিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন। এ প্রসঙ্গে বিজিবি’র ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক কামরুল আহসান বলেন, নতুনপাড়া গ্রামের দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্যদের সেখানে গিয়ে তাদের পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিতে বলি। আমার কথামত জিবির সদস্যরা সেখনে যায় এবং তাদেরকে শান্ত করে, এর বাইরে কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে সঠিক প্রমান দিতে পারলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।