মনিরামপুরে লিতুন জিরার পাশে ডাকসুর জিএস রাব্বানী

0

এসএম মজনুর রহমান,মনিরামপুর (যশোর)॥ যশোরে মনিরামপুরে হাত-পা বিহীন জন্ম নেয়া সেই মেধাবী লিতুন জিরার বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। শনিবার বিকেলে রাব্বানী শেখপাড়া খানপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়ার পর লিতুন ও তার পরিবারের সাথে ঘণ্টাব্যাপী সময় পার করেন। রাব্বানী এ সময় লিতুনকে আদর করে লেখপাড়ার জন্য লিতুনের হাতে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী তুলে দেন।
উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের প্রভাষক হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগমের একমাত্র মেয়ে লিতুনজিরা দুই হাত-পা বিহীন জন্ম নেয়। প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং মেধা দিয়ে পরিবারের দুঃখ-কষ্টকে জয় করে প্রতিবন্ধী লিতুন জিরা। লিতুন জিরা মুখে ভর দিয়ে লিখেই গত বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। অদম্য মেধাবী লিতুনজিরা বৃত্তিও লাভ করে। তার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় সে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলেও প্রধান শিক্ষকের অসদাচরনের জন্য সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে গোপাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন। এ নিয়ে লোকসমাজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতার হাত বাড়ান। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যরে গ্রামের বাড়ি ধুধুদাহের নিকটবর্তী গ্রাম শেখপাড়া খানপুরে অবস্থিত লিতুনজিরার বাড়ি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের(ডাকসু) জিএস গোলাম রাব্বানী শনিবার বিকেলে লিতুরজিরার বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি যান উপজেলার পারখাজুরা গ্রামে। গত ২০ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে পারখাজুরা গ্রামে গাছচাপায় নিহত হয় পাঁচজন। গোলাম রাব্বানী নিহত পাঁচজনের শোকাহত পরিবারবর্গকে সান্ত্বনা দেন এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী প্রদান করেন। নিহতরা হলেন, পারখাজুরা গ্রামের দফাদার পাড়ার দিনমজুর নজরুল ইসলাম ওয়াজেদ ও তার ছেলে মো.ইসা, মৃত জবেদ আলীর অশীতিপর স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং ঋষিপাড়ার খোকন দাস ও তার স্তী বিজন দাসী। এ সময় রাব্বানীর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মশ্বিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, হাদিউজ্জামান, মেহেদী হাসান রাতুল প্রমুখ।