পাইকগাছার ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ২২নং পোল্ডারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত : স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ টিকছে না

0

জি,এম, মিজানুর রহমান, পাইকগাছা (খুলনা) ॥ খুলনার পাইকগাছার উপকূলীয় অঞ্চল দেলুটি ইউনিয়নের ওয়াপদার কয়েকটি জায়গা স্থানে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাঁধ ভেঙ্গে ২২নং পোল্ডারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চিংড়ি ঘের, কৃষি জমি, ঘর-বাড়ী ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত কালিনগর ২০/২২ বিঘা জমি বাদ দিয়ে বিকল্প দু’দফা বাঁধ দিলেও তা রক্ষা হয়নি। ২হাজার লোক স্বেচ্ছাশ্রমে কয়েকদিন যাবত বাঁধ রক্ষায় কাজ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। এদিকে এলাকায় মানুষের দুর্বিসহ জীবন যাপনে এগিয়ে আসছে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক। তিনি এলাকাবাসীর জন্য ১০ বস্তা চিড়া ও গুড় বিতরণ করেন। ঘুর্ণিঝড় আম্পানে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল লন্ড-ভন্ড হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গন লাগলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ রক্ষা পেলেও দেলুটি ইউনিয়ন রক্ষা পাচ্ছে না। প্রতিদিন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা গভীর থেকে আরো গভীর হচ্ছে। আতংকিত হয়ে পড়ছে এলাকাবাসী। তরমুজ চাষ অধ্যুষিত ২২নং পোল্ডারের ২০টি গ্রাম সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত। ৪/৫শ বিঘা তরমুজের ক্ষেতে পানিতে ডুবে রয়েছে। তরমুজ চাষীরা পুঁজি হারিয়ে হতাশায় ভুগছে। এব্যাপারে বৃদ্ধ বিদ্যাধর সরদার (৭০) জানান, আইলাতেও আমাদের এলাকায় এত পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। দেলুটি ইউনিয়নে এ দুর্বিসহ জীবন-যাপন দেখে সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক জানান, যেহেতু ক্ষতিগ্রস্থ এ ইউনিয়নটি আমার ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত। তাদের দুর্বিসহ জীবন-যাপন দেখে আমি খুবই কষ্ট পাচ্ছি। বিবেকের তাড়নায় এগিয়ে আসছি তাদের পাশে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, আমার এলাকার ৪টি পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যা খুবই কষ্টদায়ক। তাদের পাশে থেকে যত সম্ভব সাহায্য করে যাচ্ছি। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, এলাকায় ভাঙ্গন খুবই ভয়াবহ। আমি ঘটনাস্থলে কয়েকবার পরিদর্শনে গিয়েছি। দ্রুত বাঁধ মেরামতের জন্য যতসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।