অপপ্রচারে হয়রানি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

0

স্টাফ রিপোর্টার ।। অপ্রচারে গতকাল বুধবার রাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাটের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অতিউৎসাহী কিছু মানুষ ওই মাদ্রাসার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত অভিনয়ের ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দিয়ে তাদের জঙ্গি হিসেবে অপপ্রচার করে। কেউ কেউ আইএসের সাথে তুলনা করে। এ নিয়ে ওই রাতে হুলস্থুল কাণ্ড হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতির সামাল দিয়েছে। এসময় পুলিশ অপপ্রচার করে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ জানায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী জানান, ভিডিওটি যশোর সদর উপজেলার রামনগর রাজারহাট এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার। গত ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর মাদ্রাসাটিতে বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভিডিওটি অনুষ্ঠানের যেমন খুশি, তেমন সাজোর। তিন জন শিক্ষার্থী ফিলিস্তিনের হামাস সাজে অভিনয় করে এবং ককসিট দিয়ে তারা নকল অস্ত্র বানিয়ে উপস্থাপন করে।

অপপ্রচারে ব্যবহৃত ভিডিও চিত্র থেকে নেওয়া ছবি

মাদ্রাসার প্রধান মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী বলেন, ‘সদর উপজেলাতে অনেক সুনামের সঙ্গে মাদ্রাসাটি পড়াশোনা হয়। মক্তব, হেফজ, কিতাব ও নাজিরা বিভাগসহ চারটি বিভাগের সাড়ে চার শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতি বছরে মতো এবারেও চলতি মাসের ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর মাদ্রাসাতে বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গজল, বাংলা, আরবি, হামদসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ইসরাইলরা যেভাবে ফিলিস্তিন মুসলমানের উপর নির্যাতন করছে সেটা নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। কিতাব বিভাগের তিন শিক্ষার্থী নাটকটি মঞ্চায়ন করে। ওদের মধ্যে একজন ফিলিস্তিন নেতা সেজে আরবিতে বক্তব্য দেয়। পাশে ককসিট দিয়ে তৈরি নকল অস্ত্র হাতে দুই জন দাঁড়িয়ে থাকে। এটা শুধু মাত্র অভিনয়। এই ভিডিওটি অনেকেই ভিন্ন উদ্দেশ্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসলেই তেমন কিছু বিষয় না।’
এদিকে ভিডিওটি নিয়ে বুধবার রাতে ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে এক বক্তব্যকালে দুই জন প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। এ খবরে একদল সাংবাদিক ওই মাদ্রাসয় যান এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশও মাদ্রাসায় যায়। তারা মাদ্রাসার শিক্ষকদের যশোর কোতয়ালি থানায় নিয়ে আসে। এবং যেমন খুশি তেমন সাজোতে ব্যবহৃত ককসিট দিয়ে তৈরি নকল আগ্নেয়াস্ত্র দুটিও জব্দ করেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী।

অপপ্রচারের ঘটনায় বুধবার রাতে যশোর কোতয়ালি থানায় গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর ই আলম সিদ্দিকী

এছাড়া রাতে  গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশের এক বার্তায় সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্ট তৈরি, নির্বাচন এবং আপলোড করার ক্ষেত্রে অধিকতর সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

ওই বার্তায় জানানো হয়- জেলা পুলিশের একাধিক টিম অনুসন্ধানে নামে এবং জানা যায় যে, গত ১৭ ডিসেম্বর ওই মাদ্রাসায় বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৪ এর প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে অত্র প্রতিষ্ঠানের তিনজন ছাত্র যেমন খুশী তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং এই ভিডিওটি তারই অংশ। জেলা পুলিশ মাদ্রাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায় দুটি সদৃশ্য অস্ত্র যা ককশিট ও কাঠের তৈরি।

ভিডিওটি নিয়ে কোন ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পুলিশ অনুরোধ করেছে ভিডিওটি নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার বা পোস্ট করতে। জানানো হয়, অপপ্রচারকারীদের প্রতিহত করতে পুলিশের সাইবার ইউনিট টিম কাজ করছে।