যশোর অঞ্চলের রেল যোগাযোগ উন্নয়নে ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো তৈরি করলেও বাস্তবে যশোরবাসী এখনও প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে নতুন আন্তঃনগর ট্রেনসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার। এসময় সংগ্রাম কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক কাওসার আলী, সদস্য সচিব রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, যুগ্ম সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান মিলন, সদস্য হারুন অর রশিদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল, সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েশ, রিয়াদুর রহমান, শেখ আলাউদ্দিন প্রমুখ।

স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতারা অভিযোগ করেন, প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ঢাকা-যশোর পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো তৈরি করলেও বাস্তবে যশোরবাসী এখনও প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পরও ট্রেনের স্বল্পতা এবং পর্যাপ্ত রুট সুবিধা না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি বলে তারা দাবি করেন তারা।

সংগ্রাম কমিটির নেতারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের এক পর্যায়ে যশোরবাসীকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রেন ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে। পরে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে উদ্বোধনের দিন একটি ট্রেন চালু করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমানে যশোর থেকে দিনে মাত্র একটি ট্রেন দুইবার যাতায়াত করছে। ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এই সীমিত সেবা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে সড়কপথে বেশি খরচ ও সময় ব্যয় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংগ্রাম কমিটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা, দর্শনা সীমান্ত থেকে একই রুটে আরও দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু, একটি লোকাল ট্রেন সংযোজন, দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ এবং সুবিধাজনক স্থানে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) স্থাপন করা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহন সহজীকরণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, যশোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও রেলসেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর, সেটির সঙ্গে কার্যকর রেল সংযোগ না থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, সরকারের বৃহৎ বিনিয়োগ সত্ত্বেও যদি স্থানীয় জনগণ তার সুফল ভোগ করতে না পারে, তাহলে সেই উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তাই আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর যশোরের জনসভায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা তুলে ধরা হবে বলেও তারা আশা করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংগ্রাম কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে যশোর অঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন গতি আসবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।