বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা যশোরের গ্রামে গ্রামে

0

আকরামুজ্জামান॥ একদিকে বৈরি আবহাওয়া, অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে শ্রমিক সঙ্কট। সবমিলে বোরো আবাদ ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন যশোরের চাষিরা। জেলার মাঠে মাঠে এখন সোনালী ফসলের সমাহার। কিন্তু অব্যাহত ঝড়-বৃষ্টির কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের কষ্টার্জিত এসব ধান। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে হারভেস্টার ও রিপার মেশিন দিয়ে কিছু এলাকায় ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও কৃষক তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারবে কীনা তা নিয়ে রয়েছেন সংশয়ে।
যশোর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ সাড়ে ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় এ বছর বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে ধানকাটা। কিন্তু করোনারভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতিমধ্যেই শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টি কৃষককে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে দেয়ার কথা বললেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, অন্যান্য বছরে বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলেও এবছর তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দেড় সপ্তাহ ধরে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ক্ষেতের পাকা ধানের মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ মাঠের ধান পানির নিচে। কোথাও কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের হাজার হাজার চাষি। তবে এরই মধ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ছাত্র-শিকসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বেশ কিছু ধান কেটে দিয়েছেন। তবে কৃষকরা বলেছেন দ্রুত ধান কেটে আনতে বেশি কৃষিযন্ত্রের প্রয়োজন।
জেলার সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে একদিকে শ্রমিক সঙ্কটে ধান কাটা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। তারপর প্রায় প্রতিদিনই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘরে ধান তুলতে পারবো কীনা আশঙ্কায় রয়েছি। ক্ষেতে ধান পেকে গেলেও কাটতে পারছিনা। একই কথা বলেন, বাঘারপাড়ার প্রেমচারা গ্রামের শামীম আক্তার। তিনি বলেন, আমার তিনবিঘা জমির ধান মাঠে কেটে ফেলে রেখেছি। বৃহস্পতিবার রাতে তুমুল ঝড়-বৃষ্টিতে তা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, করোনা সঙ্কটের কারণে এমনিতে মারাত্মক অর্থ সংকটে রয়েছি। তার ওপর যদি বোরো আবাদ ঘরে তুলতে না পারি তাহলে বেঁচে থাকার কোনো উপায় থাকবে না। যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্র্তা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, বৈরি আবহাওয়া ও করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৯ টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কৃষকের ধান কেটে দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫শ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি ধানগুলো চলতি সপ্তাহের মধ্যে কাটা হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, করোনা সংকটের কারণে বোরো আবাদ কাটতে শ্রমিক সংকটের বিষয়টি নিয়ে কৃষি বিভাগ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে জেলার বাইরে থেকে আমরা শ্রমিক আনতে সহযোগিতা করেছি। সেসব শ্রমিক এখন ধান কাটছেন। এছাড়া কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কিছু কিছু এলাকায় ধান কেটে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েক দফা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে অধিকাংশ মাঠের ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। যে কারণে কাটতে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে সামনে যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে কৃষক সহজেই তাদের ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন।