জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা কমতে পারে ১১%

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস আকাশসেবা সংস্থাগুলোর ব্যবসায় টালমাটাল অবস্থা তৈরি করেছে। দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় সংকুচিত হয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা। বাতিল হয়েছে হাজারো ফ্লাইট। ব্যবসা কমার পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত জেট ফুয়েলের চাহিদায়। নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে চলতি বছর শেষে জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা ১১ শতাংশ কমতে পারে। নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্টাড এনার্জির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। প্রতিদিনই বাতিল হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইট। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমে আসতে পারে। এর অর্থ হলো, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা নেমে আসতে পারে ১ লাখ ৯০ হাজারে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী, ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ২০২০ সালে বৈশ্বিক ফ্লাইটের সংখ্যা দৈনিক দুই লাখ প্রাক্কলন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাতিল হওয়া কিংবা সংকুচিত হয়ে আসায় স্বাভাবিকভাবেই জেট ফুয়েলের চাহিদায় লাগাম পড়বে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল দৈনিক ৭২ লাখ ব্যারেল। চলতি বছর জ্বালানি পণ্যটির সম্মিলিত বৈশ্বিক চাহিদা প্রতিদিন ৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল কমে দাঁড়াতে পারে ৬৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।
গত বছরের শেষভাগে চীনে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়। ওই সময় চীনের সঙ্গে বিভিন্ন আকাশসেবা সংস্থা উড়োজাহাজ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এর পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এখন পর্যন্ত ১১০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের বাইরে নতুন কেন্দ্র হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইউরোপ। নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোয় (যুক্তরাজ্য ব্যতীত) ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা আকাশসেবা সংস্থাগুলোর ব্যবসায় সংকট তৈরি করেছে। চীনের সঙ্গে বেশির ভাগ আকাশসেবা সংস্থার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ভারতে বিদেশীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট। একই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও।
রেস্টাড এনার্জি বলছে, গরমের মৌসুমের শুরুতে বিশ্বজুড়ে পর্যটকের প্রবাহ বেশি থাকে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বিশ্বের পর্যটন কেন্দ্রগুলো জনশূন্য অবস্থায় আছে। শুধু পর্যটন নয়, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজেও মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে চাইছে না। এর ওপর যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে বছর শেষে জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা ও আকাশসেবা সংস্থাগুলোর ব্যবসায় তীব্র মন্দার সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ ধাক্কা সামলে উঠতে অনেকটা সময় লাগবে বলেও মনে করা হচ্ছে।