পুরনো গ্রন্থের গন্ধে ইতিহাস খুঁজে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উপমহাদেশের প্রাচীনতম জ্ঞানপীঠ যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক গ্রন্থরাজির সান্নিধ্যে সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন বিকেল ৩টার দিকে তিনি ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী গণপাঠাগারটি পরিদর্শন করেন।

লাইব্রেরিতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান উপস্থিত প্রাজ্ঞজন, গবেষক এবং যশোর ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা। এসময় তিনি লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি শাখা ঘুরে দেখেন। তুলট কাগজ ও তালপাতায় হাতে লেখা মহাকবি কালিদাসের পুঁথির অনুলিপি, প্রাচীন রামায়ণ-মহাভারত এবং চাণক্যের কালজয়ী রচনাসমূহ তিনি গভীর মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় পৌনে দুইশ’ বছরের পুরোনো এসব অমূল্য সম্পদ দেখে তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

এছাড়া তিনি ঐতিহ্যবাহী এ পাঠাগরের থাকা অন্যান্য বইও ঘুরে ঘুরে দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় প্রাজ্ঞজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি লাইব্রেরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শোনেন।

এ সময় তিনি নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে ডিজিটাল আসক্তি থেকে শিশুদের মুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাচ্চাদেরকে মোবাইল ফোন থেকে বের করে এনে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে চাই। এই মহৎ কাজে আমরা অবশ্যই সফল হবো।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মনন বিকাশে সহায়ক বই রাখা হবে এবং বই পড়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমও চালু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয় এর মধ্যে দেখেছেন, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের সাথে আমি বসেছিলাম কথা বলতে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সাথে কাজ করতে চাচ্ছি। আমরা চিন্তা করছি- প্রতি উপজেলার দু’টি করে প্রাইমারি স্কুল টার্গেট করে এগোতে।

তিনি আরো বলেন, সেখানে আমরা বাচ্চাদের বই দেব। এগুলো কোনো রাজনৈতিক বই না। রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে আছে- যা এই বইয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা সেই ধরনের বই দেব, যেগুলো পড়লে বাচ্চারা অনেক কিছু শিখতে পারবে, বুঝতে পারবে, দ্বীন-দুনিয়া সম্পর্কে, পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারবে এইরকম বই দেব তাদেরকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বই দিয়ে আমরা বাচ্চাদের আস্তে আস্তে বই পাঠে অভ্যাস করাতে চাচ্ছি এবং শুধু তাই নয়, এই বইটা সে পড়বে এবং এই পড়ার বিষয়টাকে আমরা পরীক্ষার ভেতরে ইন্ট্রোডিউস করতে চাচ্ছি। অর্থাৎ, এই বইগুলোর মধ্য থেকে প্রশ্ন হবে এবং সেটার মধ্য থেকে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সেই পরীক্ষায় পাস করতে হবে।’

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনে আসেন। প্রধানমন্ত্রী প্রাচীন লাইব্রেরিটি ঘুরে দেখেন।

যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।