স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুর চারুপীঠ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে শুক্রবার সকালে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান ও ২০১৯ সালের বার্ষিক চারুকারু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেশবপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে চারুপীঠ আর্ট স্কুলের সহকারী পরিচালক শ্রাবন্তী রায় দে’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেশবপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মশিউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক উৎপল দে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি শেখ শাহীন, কেশবপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবুর রহমান টুলু, বালিয়াডাঙ্গা সর্বজনীন কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিএম মাসুদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ দেবনাথ, অভিভাবক আব্দুল আজিজ, প্রশিক্ষক ওবায়েদ জাকির রাসু, সাগর চ্যাটার্জী, মিলন মল্লিক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ১৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।
কালীগঞ্জে ব্রিজ নির্মাণে অস্বাভাবিক ধীর গতি, জনদুর্ভোগ চরমে
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ছালাভরা ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে অস্বাভাবিক ধীর গতিতে। প্রায়ই ব্রিজের দুই পাশে আট থেকে দশ কিলোমিটার যানজট লেগে থাকে। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির মাঝের অংশ দেবে যায়। পরে ব্রিজের উপরে এক সাইডে স্টিলের বেইলি ব্রিজ করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। পরে পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক বিভাগ। ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের অধীনে ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ কাজ করছে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুজাহার এন্টারপ্রাইজ। তিন মাসের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে এক মাসে এখনো সম্পন্ন হয়নি এক সাইডের ভাঙার কাজ। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে যেমন চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে তেমনি জনদুর্ভোগ আরো বাড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
চালক বিজয় দাস জানান, রাতে ট্রাক নিয়ে যেতে খুব সমস্যা হয়। দীর্ঘ সময় যানজটের কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সমস্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত উচ্চমহল থেকে সঠিক নজরদারি করা, কাজে গাফিলতি দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম জানান, ২৭ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ চলছে। ব্রিজটির আগের পিলার ভাঙতে সময় লেগে যাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ নিয়ে তিনিও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য জনবল আরো বাড়ানো হবে। মনে হচ্ছে না কাজে ধরিগতি, তবে ঠিকাদারের গাফিলতি আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে।
‘সাংবাদিক অশোক সেনের দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে’
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘সাংবাদিক অশোক সেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হয়েও সনদপত্র নিয়ে গেজেটে নাম লেখাতে কখনো আগ্রহী হননি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি সনদপত্র নিতে কখনো আগ্রহী হননি। তার দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করলে তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে’।
প্রথম আলোর যশোর অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক অশোক সেনের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে শুক্রবার বিকেলে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রথম আলো যশোর বন্ধুসভা ও অশোক সেন স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে প্রথম আলো অফিসে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘অশোক সেনের আর্থিক অভাব থাকলেও অসৎ পন্থায় টাকা উপার্জন করেননি। সাংবাদিকতা জীবনে অন্যায়ের কাছে তিনি মাথা নত করেননি। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। কোন ধরনের লোভ-লালসা তাকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি’। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সনাক যশোরের সভাপতি সুকুমার দাস, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি শ্রাবণী সুর, যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিদিনের কথা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এইচ আর তুহিন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। সমাপনি বক্তব্য রাখেন বন্ধুসভার সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রায়ত অশোক সেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি অশোক সেন দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কাল হালকা শৈত্য প্রবাহের পূর্ভাবাস : যশোরাঞ্চলে আজ কমবে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি,বাড়বে শীতের তীব্রতা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত যশোরে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ থেকে বৃষ্টি কমে যাবে। তবে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। রোববার থেকে এ অঞ্চলে আবারও হালকা শৈত্য প্রবাহ শুরু হবে বলে আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও বৃষ্টি হওয়ার কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি ছিলো বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।
আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, শীত মৌসুম হিসেবে এটি একেবারেই স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে আজ শনিবার থেকে যশোরাঞ্চলের আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশের মেঘ কেটে গেলেই এ অঞ্চলে শীত জেকে বসবে বলে তিনি জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে সেটি কমে ১০ ডিগ্রির নিচে ওঠানামা করতে থাকবে। তিনি বলেন, শনিবার যশোরাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের আরও কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রোববার থেকে দেশের কোথাও আর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই আবহাওয়া বার্তায়। ৬ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে এ অঞ্চলে। এসময় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রার ওপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসে দুটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চল দিয়ে। জানুয়ারির ৬ তারিখ থেকে একটি এবং শেষের দিকে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। প্রথম দিকে হালকা শৈত্য প্রবাহ হলেও শেষের দিকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ হিসেবে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অফিসের হিসেবে, এ বছর অনেকটা আগেভাগেই শীত জেকে বসতে শুরু করেছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে শৈত্য প্রবাহ খুব কম দেখা গেছে। সাধারণত মধ্য জানুয়ারি থেকে এ অঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ বা শীত পড়তে থাকে। কিন্তু এ বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোরসহ এ অঞ্চলে মৃদ্যু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়। এ সময়ে যশোরে তাপমাত্রা ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়াবিদরা এ পরিস্থিতির জন্য জলবায়ূ পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবকে দায়ী করছে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোরে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিকে বোরো আবাদ ও সবজি আবাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, গত দুদিনের বৃষ্টিতে কৃষির কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং লাভ হয়েছে বেশি। তিনি বলেন, গুঁড়িগুঁড়ি যে বৃষ্টি হয়েছে তা কোথাও জমে থাকেনি। ফলে বৃষ্টি ধানের চারা ও সবজি ক্ষেতের জন্য উপকার হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে এবং তা জমিতে আটকে সবজির ক্ষতির সম্ভাবনা ছিলো। বৃষ্টিতে ক্ষতি না করলেও সামনের শৈত্য প্রবাহের আগমনে কৃষক অনেকটা চিন্তায় রয়েছে। কৃষকরা জানান, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের শৈত্য প্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে কিছু বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়। তবে শৈত্য প্রবাহ বিলম্বিত না হওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। ফলে সামনের শৈত্য প্রবাহ কতটা স্থায়ী হবে সে বিষয় ভাবিয়ে তুলেছে কৃষককে। এ বিষয়ে কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, শৈত্য প্রবাহ থেকে এ অঞ্চলের বীজতলার তেমন ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি। কারণ যশোরের বিভিন্ন এলাকার মাঠের ৭৫ শতাংশ বীজতলার ধানের চারা বড় হয়ে গেছে। এসব চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে বাকি যেসব ক্ষেতের ধানের চারা ছোট রয়েছে সেসব চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজতলা পলিথিলিন দিয়ে ঢেকে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যশোরে মোট ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
চৌগাছায় খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ জলাবদ্ধতায় বোরো চাষ হুমকিতে
এম.এ. রহিম চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় খালে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রাজারকাটা খালে বাঁধ দিয়ে এ মাছ চাষ করছেন কালিয়াকুন্ডি গ্রামের জুল হোসেন, যশোর সদরের ইসলামপুরের সাদেক হোসেন ও শেখ পাড়ার আল-আমিন হোসেন। তারা খালে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ৮ গ্রামের পানি বের হওয়ার পথও। এতে কয়েক শ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বাঁধ অপসারণের দাবি করেছেন।
চৌগাছা উপজেলার মালিগাতি, হাউলী,কালিয়াকুন্ডি, রানিয়ালী ও বাড়িয়ালীসহ বেশকটি গ্রামের পানি এ রাজারকাটা খাল দিয়ে যশোর সদর উপজেলার বুকভরা বাঁওড়ে যায়। সেখান থেকে গিয়ে পড়ে কপোতা নদে। ২০১৩ সাল থেকে কালিয়াকুন্ডি গ্রামের জুল হোসেন, যশোর সদরের ইসলামপুরের সাদেক হোসেন ও শেখ পাড়ার আল আমিন এ খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। মাছ চাষ করার জন্য তারা কালিয়াকুন্ডির রাজারকাটা খালের মুখে ও বারোমাসি খালের ব্রিজের নিচে ইট দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন। তাই এ এলাকার কয়েক শ বিঘা জমিতে স্থায়ী জলবদ্ধতার ফলে বোরোসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। কালিয়াকুন্ডির কৃষক সুলাইমান হোসেন বলেন, খাল ধারের জমিতে আগে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল ফলাতে পারতেন। বর্তমানে জলবদ্ধতার ফলে কোনো আবাদ করতে পারছেন না। সাবেক মেম্বার আব্দুল মুজিদ বলেন, এ খালের পাশে গ্রামের অনেক চাষির জমি রয়েছে। প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করায় তারা এখন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ কৃষি কাজ করেই তাদের সংসার চলে। স্থায়ী জলবদ্ধতার ফলে এখন তাদের অনেক সমস্যা। সংসার চলছে না। পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, তারা মাছ চাষের জন্য ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়েছেন। এই খাল দিয়ে পানি বের না হওয়ায় গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। আমার ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক বার শালিস বিচার করেছি। কিন্তু যারা মাছ চাষ করছে, তারা কোনো কথা শুনছে না। ওই খালের পাশে জমি রয়েছে কালিয়াকুন্ডি গ্রামের ইসমাঈল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, অঞ্জলী রাণী, আয়ুব হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মালিগাতি গ্রামের শংকরের, সলুয়া গ্রামের এখলাস উদ্দিনের। তাদের দাবি জমিগুলো জবরদখল করে ওই ব্যক্তিরা মাছ চাষ করছেন। তারা অভিযোগ করেন জমির কথা বলতে গেলে জুল হোসেনের গুন্ডারা তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জুল হোসেন বলেন, আমি ১৫৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। সবটুকু ব্যক্তিমালিকানা জমি। ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়েছি, তবে কিছু ইট খোলা আছে, সেখান থেকে পানি বের হতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে চাষিরা সেখানে ধান চাষ করতে পারবে। তাদের কোনো সমস্যা হবে না। গ্রামে আমার একটি প্রতিপ আছে। তারা আমার নিয়ে অপ্রচার চালাচ্ছে।
বটিয়াঘাটায় বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা
বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ বটিয়াঘাটা উপজেলার বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, সৎপথে জীবন যাপনের মানই আলাদা। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছ থেকে পরিসেবা পেতে চায়। এ উপজেলার সাধারণ মানুষের কথা আমার সারা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মো, আশরাফুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাসেদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, অধ্যক্ষ অমিতেষ দাস, উপজেলা প্রেস কাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন অধ্যক্ষ নির্মলেন্দু বিশ্বাস, অধ্যক্ষ মো. আরিফুজ্জামান স্বপন, কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন, সমাজসেবা কর্মকর্তা অমিত সমাদ্দার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রাহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্যরা। এ সময় বিদায়ী অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ঝিকরগাছায় দু দিনের বৃষ্টিতে পাকা রাস্তা কাঁদা-মাটিতে একাকার, ভোগান্তিতে মানুষ
তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর) ॥ সামান্য বৃষ্টিতেই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তায় একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক-মহাসড়কগুলো কাঁদা-মাটিতে একাকার গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চারদিকে ইটভাটার অবৈধ ট্রাক্টর, ট্রলি, ট্রাক দিয়ে নিয়মিত মাটি, বালি তোলায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে জনগণের মাঝে। প্রশাসনের নীরবতা জনমতে নানারকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত দু দিনের সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটি টানার ট্রাকের মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রভাবশালীরা এসব ইটভাটায় মাটি টানার কাজে ট্রাক চালিয়ে আসছেন। অবৈধ ট্রাক্টর, ট্রলি, ও ফিটনেসবিহীন ট্রাকে রাস্তা দিয়ে মাটি বহন করা হচ্ছে। ট্রিপ চুক্তিতে গাড়ির চালকরা মাটি বহন করতে গিয়ে দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। এসব অবৈধ গাড়ি চালানোর জন্য মাসিক হারে গাড়ি মালিকদের বিভিন্ন স্থানে টাকা দিতে হয় বলে জানা গেছে। ফলে বৃহস্পতি ও শুক্রবারের সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার হসপিটাল-কাশিপুর সড়ক, লাউজানী-নারাঙ্গালী সড়ক, বাঁকড়া-বাগআঁচড়া সড়ক, শিওরদাহ-উলাশী সড়ক, মাটিকোমরা-সড়ক, মহেশপাড়া সড়ক, শ্রীরামপুর-কায়েমকোলা সড়ক, মিশ্রীদেয়াড়া-ছুটিপুর সড়ক, বেনেয়ালী-শিমুলিয়া সড়ক, বোধখানা-মধুখালী সড়কে কাঁদার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তায় চলাচলকারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান চালকদের বিপদের কোন শেষ নেই। এদিন বেশকয়েকটি পথচারী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সিএনজি, বাস-ট্রাক চলাচলে ব্যাপক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও হেঁটেচলা যাত্রীদের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করেছে। তবে হসপিটাল রোডের মাটির গাড়ি চলাচল বন্ধের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে ঝিকরগাছা সেবা সংগঠনের সভাপতি মাস্টার আশরাফুজ্জামান বাবু জানিয়েছেন।
লোকসমাজের প্রাক্তন সম্পাদক আব্দুল হাসিবের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজ ৪ জানুয়ারি। দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক ও বীমা কর্মকর্তা আব্দুল হাসিবের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। একজন মুক্ত চিন্তার মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন ধর্মান্ধ ও গোঁড়ামির বিপক্ষে নির্লোভ ও নিরহংকারী ছিলেন তিনি। তাঁর সবচাইতে বড় সফলতা, তিনি তাঁর প্রত্যেক সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গেছেন। যশোরের সাংবাদিক মহলে তিনি ছিলেন একজন উজ্জল নক্ষত্র। যশোর প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে কয়জন সাংবাদিক মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন তার মধ্যে আব্দুল হাসিব অন্যতম। মরহুম আফজাল সিদ্দিকী, গোলাম মাজেদ, জমির আহমেদ টুন, তৌহিদুর রহমান এরাই মূলত যশোর প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকায় ছিলেন। সে সময় যশোর শহরের দড়াটানায় আলি মঞ্জিলের দোতালায় আব্দুল হাসিবের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস ছিল। সেখানেই সর্বপ্রথম যশোর প্রেস ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়। আজকের এই দিনে সকলের কাছে আব্দুল হাসিবের জন্য দোয়া প্রার্থণা করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়নীতি সহজ করা দরকার
বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে বিদেশে যান। প্রতিবেশী ভারতসহ সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক হচ্ছে রোগীদের পছন্দের জায়গা। এসব দেশের অনেক হাসপাতালের একাধিক সেবাকেন্দ্র রয়েছে বাংলাদেশে। এসব সেবাকেন্দ্র থেকে রোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকের যোগাযোগ সম্পন্ন করার কাজটি করা হয়ে থাকে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ব্যয় কী পরিমাণ হতে পারে, চিকিৎসা ব্যয়ের বাইরে আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচের বিষয়টিও এসব সেবাকেন্দ্র থেকে ধারণা পাওয়া যায়। একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীর সংখ্যা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ। তাদের চিকিৎসা ব্যয় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে যাচ্ছে বিদেশে? চিকিৎসা বা ভ্রমণ যে কোনো কারণেই বিদেশে যাওয়ার সময় অর্থ নিয়ে যাওয়ার একটি নিয়ম আছে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে অর্থ নিয়ে যাওয়া যাবে না। চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার েেত্র যে নিয়ম রয়েছে, তা মেনে চলা হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাইরে যাওয়ার কথা নয়। তাহলে টাকা যাচ্ছে কিভাবে?
প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বৈদেশিক বিনিময় লেনদেন নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী দেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ প্রতি যাত্রায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারে। ব্যাংক থেকে এই ১০ হাজার ডলার ছাড়করণের েেত্র রোগীদের সরকারি মেডিক্যাল বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুপারিশসংবলিত প্রত্যয়নপত্র ব্যাংকে দাখিল করার নিয়ম রয়েছে। এটি দাখিল না করে এ সুবিধা নিতে পারবে না বিদেশগামী রোগীরা। অথচ ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এখন আর মেডিক্যাল ভিসার জন্য সরকারি মেডিক্যাল বোর্ড বা স্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুপারিশ প্রয়োজন হয় না। ফলে রোগীরাও বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা নিতে আগ্রহী হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে নিয়মের কড়াকড়ি রয়েছে। আর সে কারণেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হুন্ডি ও অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক উপায়ে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে নেওয়া হচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ। এ ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের প্রবণতাও বাড়ছে। এ ছাড়া অনেকেই ভ্রমণ কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে চিকিৎসায় খরচ করছে। চিকিৎসা কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার সুযোগ রাখা হলেও নীতিমালার এই শর্তের কারণে রোগীরা এতে আগ্রহ দেখায় না। এ েেত্র করণীয় কী? সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যে কড়াকড়ি নিয়ম রয়েছে তা উঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আর তাহলেই চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামীদের মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে টাকা নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।
মাত্তমডাঙ্গার মাদক ব্যবসায়ী দিনু ইয়াবাসহ আটক
ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খানজাহান আলী থানার মাত্তমডাঙ্গা এলাকার জামাল তরফদারের পুত্র চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দিনু তরফদাকে পুলিশ ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯ টায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ তোফায়েল আহম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ কনি মিয়া তাকে আটক করেন। ফুলতলা দামোদর মুক্তময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে খুলনা-যশোর মহাসড়ক চেকপোস্টে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী দিনু তরফদার (২৪) কে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ফুলতলা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।










