স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত যশোরে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ থেকে বৃষ্টি কমে যাবে। তবে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। রোববার থেকে এ অঞ্চলে আবারও হালকা শৈত্য প্রবাহ শুরু হবে বলে আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও বৃষ্টি হওয়ার কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি ছিলো বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।
আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, শীত মৌসুম হিসেবে এটি একেবারেই স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে আজ শনিবার থেকে যশোরাঞ্চলের আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশের মেঘ কেটে গেলেই এ অঞ্চলে শীত জেকে বসবে বলে তিনি জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে সেটি কমে ১০ ডিগ্রির নিচে ওঠানামা করতে থাকবে। তিনি বলেন, শনিবার যশোরাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের আরও কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রোববার থেকে দেশের কোথাও আর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই আবহাওয়া বার্তায়। ৬ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে এ অঞ্চলে। এসময় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রার ওপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসে দুটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চল দিয়ে। জানুয়ারির ৬ তারিখ থেকে একটি এবং শেষের দিকে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। প্রথম দিকে হালকা শৈত্য প্রবাহ হলেও শেষের দিকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ হিসেবে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অফিসের হিসেবে, এ বছর অনেকটা আগেভাগেই শীত জেকে বসতে শুরু করেছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে শৈত্য প্রবাহ খুব কম দেখা গেছে। সাধারণত মধ্য জানুয়ারি থেকে এ অঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ বা শীত পড়তে থাকে। কিন্তু এ বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোরসহ এ অঞ্চলে মৃদ্যু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়। এ সময়ে যশোরে তাপমাত্রা ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়াবিদরা এ পরিস্থিতির জন্য জলবায়ূ পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবকে দায়ী করছে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোরে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিকে বোরো আবাদ ও সবজি আবাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, গত দুদিনের বৃষ্টিতে কৃষির কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং লাভ হয়েছে বেশি। তিনি বলেন, গুঁড়িগুঁড়ি যে বৃষ্টি হয়েছে তা কোথাও জমে থাকেনি। ফলে বৃষ্টি ধানের চারা ও সবজি ক্ষেতের জন্য উপকার হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে এবং তা জমিতে আটকে সবজির ক্ষতির সম্ভাবনা ছিলো। বৃষ্টিতে ক্ষতি না করলেও সামনের শৈত্য প্রবাহের আগমনে কৃষক অনেকটা চিন্তায় রয়েছে। কৃষকরা জানান, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের শৈত্য প্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে কিছু বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়। তবে শৈত্য প্রবাহ বিলম্বিত না হওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। ফলে সামনের শৈত্য প্রবাহ কতটা স্থায়ী হবে সে বিষয় ভাবিয়ে তুলেছে কৃষককে। এ বিষয়ে কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, শৈত্য প্রবাহ থেকে এ অঞ্চলের বীজতলার তেমন ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি। কারণ যশোরের বিভিন্ন এলাকার মাঠের ৭৫ শতাংশ বীজতলার ধানের চারা বড় হয়ে গেছে। এসব চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে বাকি যেসব ক্ষেতের ধানের চারা ছোট রয়েছে সেসব চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজতলা পলিথিলিন দিয়ে ঢেকে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যশোরে মোট ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।





