পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোগে রবিববার সকালে হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৩০০ কম্বল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান কে.এম. আরিফুজ্জামান তুহিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সচিব ফারুক হোসেন সরদার, ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান, তাজউদ্দীন আহমেদ, মেরিনা সুলতানা প্রমুখ।
পাকিস্তানের অনুরোধে কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসি বৈঠক ডাকছে সৌদি আরব
লোকসমাজ ডেস্ক॥ কাশ্মীর নিয়ে ওআইসিভুক্ত ইসলামী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব। ধারণা করা হচ্ছে এর প্রভাব পড়তে চলেছে ভারত ও সৌদি আরবের স¤পর্কের মধ্যেও। সৌদি আরবের কথায় মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া একটি ইসলামিক সম্মেলনে যোগ দেয়া থেকে বিরত ছিলো পাকিস্তান। এরপরেই কাশ্মীর নিয়ে ওই বৈঠকের আহবান জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ। ইসলামাবাদে তার কাছে পাক সরকার বারবার অনুরোধ জানায় যাতে কাশ্মীর ইস্যুতে সৌদি আরব ওআইসির একটি বৈঠক ডাকে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে আয়োজিত একটি ইসলামিক সম্মেলনে অংশ না নিতে পাকিস্তানের প্রতি আহবান জানায় সৌদি আরব। বিনিময়ে কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসির বৈঠক ডাকার কথা বলে রিয়াদ।
কুয়ালালামপুরে মাহাথির মোহাম্মদ ও তুরষ্কের রিসেফ তাইয়েফ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিলো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৌদির আহবানে তা ত্যাগ করে পাকিস্তান। তবে ঠিক কবে ওআইসিভুক্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজিত হবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে এরপর দিল্লির সঙ্গে রিয়াদের স¤পর্ক নিচের দিকে নামতে শুরু করবে। প্রথম থেকেই গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের স্বশাসনের অধিকার বাতিলের পর কোনো মুসলিম রাষ্ট্রই পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন দেয়নি।
ব্রিটিশ আর্মির সঙ্গে গান ভিডিওতে টয়া
লোকসমাজ ডেস্ক॥ নতুন বছর আসতে না আসতেই প্রকাশ হয়েছে লাক্সতারকা টয়ার নতুন মিউজিক ভিডিও। গানের নাম ‘হারিয়ে যেওনা তুমি’। গানটি গেয়েছেন লন্ডন প্রবাসী ব্রিটিশ আর্মি হাসান মুন। গাওয়ার পাশাপাশি টয়ার সঙ্গে ভিডিওতে মডেলও হয়েছেন তিনি।
গানটির কথা লিখেছেন এবং সুর করেছেন মৌসুম আহমেদ, সঙ্গীতায়োজন করেছেন সাজিদ সরকার। শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান’সহ আশেপাশের মনোরম লোকেশনে মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্যায়ণ করা হয়। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন সাইফুল ইসলাম রোমান।
শনিবার এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ডের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয় গান ভিডিওটি। প্রথম গান নিয়ে হাসান মুন বলেন, ‘ শত ব্যস্ততার মধ্যেও গানটাকে নিজের ভেতর লালন করি। এটা শুধু আমার প্রথম গান নয়, আমার স্বপ্নের একটা প্রজেক্ট। গানের সঙ্গে মিল রেখে একটি সুন্দর গল্পে এর ভিডিওটি নির্মিত হয়েছে। নির্মাতা বেশ গুছিয়ে চমৎকার এই মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করেছে। আশা করছি দর্শকের ভালো লাগবে।’
মুমতাহিনা টয়া বলেন, ‘গানটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। মিউজিক ভিডিওটির গল্পটাও আমার কাছে একটু আলাদা মনে হয়েছে। আমি এই গানটির ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। আশা করছি বছরের শেষ প্রান্তে আমার মিউজিক ভিডিওটি সবার মন কাড়বে।’
ব্লান্ডেলের সেঞ্চুরিও বাঁচাতে পারেনি কিউইদের
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ টেস্ট ক্রিকেটে এত বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির নেই কারো। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতেই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৪৮৮ রানের লক্ষ্যে চতুর্থ দিন ব্যাট করতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে অস্বস্তিকর ব্যাটিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা লড়াই চললেও দীর্ঘায়িত হয়নি তাদের প্রতিরোধ। মেলবোর্নে চার দিনেই নিউজিল্যান্ডকে ২৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
নিউজিল্যান্ডকে ফলোঅন না করানো অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৩৭ রানে ব্যাটিং শুরু করে সকালে। মাত্র ১০ ওভার ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ঘোষণা করে ৫ উইকেটে ১৬৮ রানে। তাতেই লক্ষ্যটা হয়ে যায় ৪৮৮ রানের। এত বিশাল লক্ষ্যে কিউইদের শুরুটা হয়েছে বাজেভাবে। ৩৫ রানে নিউজিল্যান্ডের ৩ উইকেট তুলে নেন জেমস প্যাটিনসন। তার ৯ বলের এই তোপে ছিল ডাক মেরে ফেরা কেন উইলিয়ামসনের উইকেটটিও। বাকিরা যেখানে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ ছিলেন, এক প্রান্ত আগলে লড়াইটা চালিয়ে গেছেন শুধু ওপেনার টম ব্লান্ডেল। যার এই টেস্টে ওপেনিংয়ে নামার সুযোগ হয়েছিল জিত রাভালের ব্যর্থতায়। তিনি সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে। তার প্রতিরোধের কারণেই জয় পেতে বিলম্ব হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ব্যক্তিগত ১২১ রানে লাবুশানে তাকে ফেরালে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের। ট্রেন্ট বোল্ট ইনজুরির কারণে আর ব্যাট করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে বেশ ভুগিয়েছেন প্যাট কামিন্স। সঙ্গে ছিলেন জেমস প্যাটিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসেও স্পিনার নাথান লায়নের ঘূর্ণির সঙ্গে ভূমিকা ছিল প্যাটিনসনের। এই ইনিংসে ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন প্যাটিনসন আর ৮১ রানে ৪ উইকেট লায়নের। ম্যাচসেরা প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ট্রাভিস হেড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংস ৪৬৭/১০ (হেড ১১৪; ৮৩/৪ ওয়াগনার), দ্বিতীয় ইনিংস ১৬৮/৫ ডি. (ওয়ার্নার ৩৮, ম্যাথু ওয়েড ৩০*; ওয়াগনার ৩/৫০)
নিউজিল্যান্ড: প্রথম ইনিংস ১৪৮/১০ (ল্যাথাম ৫০; কামিন্স ৫/২৮, প্যাটিনসন ৩/৩৪), দ্বিতীয় ইনিংস ২৪০ (ব্লান্ডেল ১২১; লায়ন ৪/৮১, প্যাটিনসন ৩/৩৫)
শৈলকুপায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কম্বল বিতরণ
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বিপুল এই কম্বল বিতরণ করেন। এ উপলক্ষে রবিবার ফুলহরী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রত্যেক প্রতিবন্ধীকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া একটি করে উন্নতমানের কম্বল দেওয়া হয়। অসহায় প্রতিবন্ধীদের কম্বল উপহার পেয়ে উৎফুল্ল হতে দেখা গেছে। অনেক অভিভাবক তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানকে কম্বল দেয়ায় চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বিপুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-১( শৈলকুপা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই তনয়া ফারহানা উর্মী, শৈলকুপা প্রেস ক্লাব সভাপতি এম হাসান মুসা, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার পলাশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের কপালে কলঙ্কের তিলকচিহ্ন : মান্না
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, স্বাধীনতার পরে ৪৮ বছরে বাংলাদেশের কপালের যত কলঙ্ক তার সবচেয়ে বড় তিলকচিহ্ন আওয়ামী লীগের কপালে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করবার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব দাবী করবার অধিকার আছে। তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে কলঙ্ক রচনা করবার ইতিহাসও সেই দলটির আছে। দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বছরে যে দুঃশাসন কায়েম করেছে সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নিন। আমি কোনো সময়, সীমার কথা বলছি না। যদি আর একটা লাশ পরে তাহলে কার পদ কি সেটা দেখার মত ইচ্ছা আমাদের থাকবে না। ৪৮ বছরে বাংলাদেশের কপালের যত কলঙ্ক তার সবচেয়ে বড় কলঙ্কের তিলকচিহ্ন আওয়ামী লীগের কপালে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ফোর টুয়েন্টিগিরি বাদ দিন। বিশ্ববিদ্যালয় মারামারি হয়েছে সবাই দেখেছে। সিসি ক্যামেরা আছে সেটা ছবি তুলেছে সেই ছবিগুলো কোথায়? এখন নূরের নামে মামলা হয়, রাশেদের নামে মামলা হয়। সেই সাথে আরও ২০ জনের নামে মামলা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে। ছাত্র আন্দোলনকে সবাই ভয় করত, এই সরকারও করে। ডাকসুকে সবাই ভয় করত, এই সরকারও সেটা করে। আমরা আজও বলি নুরের উপর হামলা করা হয়েছে, নুর কারো উপর হামলা করেনি। নূর এবং অন্যদের নামে যে মামলা আছে তা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করেন।
টকশো নয় টেলিভিশনের উপস্থাপকরা একেকটা নাটক বানাবার চেষ্টা করে এমন মন্তব্য করে মান্না বলেন, দু-একটা টেলিভিশন আছে তারা টকশো সাজায়। তারা আবার জিজ্ঞেস করে বহিরাগত কি ছিল? মনে হয় জীবনে তারা বহিরাগত দেখে নাই। সাবেক এই ডাকসুর ভিপি বলেন, আমরা যখন মাঠে নেমেছি, আমরা মাঠে থাকবো। গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলন নামে একটা সংগঠন আমরা করেছি। কালকে মৎস্য ভবনের সামনে আমরা একটা সমাবেশ করবো। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গায়ের জোরে ক্ষমতা আমরা মানি না। এই ভোট মানি না, আপনাকে মানি না, আপনার সরকারকেও মানিনা। তিনি বলেন, পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগ নাই, পুলিশ লীগ মানেই আওয়ামী লীগ। পুলিশ জনগণের সন্তান, ওরা মানুষ। সুতরাং ওরা মানুষের পক্ষেই থাকবে। তিনি আরো বলেন, আজকে আমাদের ধিক্কার জানাবার দিন। জাতির ইতিহাসের এত বড় কলঙ্কের তিলক আগে কখনো লাগে নি। যেটা গত বছর ২৯ ডিসেম্বর রাতে লেগেছে। এই ভোট বাতিল করতে হবে, এই সরকার বাতিল করতে হবে, পার্লামেন্ট বাতিল করতে হবে। নেমে যেতে হবে সরকারকে। আজকে সেই শপথ নেয়ার জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
মন্তব্য কলাম: আজ ৩০ ডিসেম্বর : স্মৃতিময় এক নির্বাচনের বর্ষপূর্তি
সুজায়েত শামীম ॥ আজ ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন। দিনটি বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে কেবল কলঙ্কিত নয়, জনগণের ভোটাধিকার লুণ্ঠনে অবিশ^াস্য রকমের বল প্রয়োগের এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায়। রাষ্ট্রযন্ত্রের সব ধরণের শক্তির অপপ্রোয়গ ঘটিয়ে এবং সাধারণ ভোটারদের পাশ কাটিয়ে প্রহসনমূলক একটি নির্বাচন মঞ্চস্থ হয় এই দিন। তরুণ প্রজন্ম বিস্ময়ে দেখেছে সাউন্ড গ্রেনেডের নাটকে রাতের আঁধারে হয়ে যাওয়া এক জাতীয় নির্বাচন। শুধু সাউন্ড গ্রেনেড নয়, অসংখ্য নাটকের ওই নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করতে দেখা যায় জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত।
এক কথায় বলতে গেলে সার্বভৌম রাষ্ট্রের মালিক যে জনগণ; এই পরম সত্যকে অস্বীকার করা হয়েছে। জনগণের মূল্যায়ন তো দূরের কথা, জনগণের প্রতি অবিচার ও অবমূল্যায়ন করেই পুনর্বার ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ, যারা এর আগেও ২০১৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিহীন এবং ভোটারবিহীন একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘ক্ষমতা’র মসনদেই থেকে যায়। নিদারুণ সেই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে ভোট না হওয়া সত্বেও নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদে নেতৃত্ব দেয় দলটি। এবারেও তাই! বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্ববর্তী সকল নির্বাচনের অনিয়ম ও ভোট কারচুপির রেকর্ড ভঙ্গ করে এক প্রকার জোরপূর্বক নতুন করে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলেও সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই গণফোরামের নেতা ডা. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন করে তাদের নেত্বেত্বে নির্বাচনে অংশ নেয় ১৪ দল ছাড়াও এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা। তবে শুরু থেকেই নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হিসেবে সামনে আসে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের দিন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অনুপ¯ি’তির কথা বলে গেছে এবং বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের কোথাও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ দেখা যায়নি। বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও প্রার্থীদের ওপর হামলার অসংখ্য খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলেও নির্বাচন কমিশনের নিরপেতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ডিসেম্বর মাস জুড়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নানা খবরে দেখা গেছে, সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা কর্মীর ওপর ২,৮৯৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেসব ঘটনায় প্রাণ হারান ৯ জন। এছাড়া আহত হন দলের ১৩ হাজার নেতা-কর্মী। অন্তত ১২ জন প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলা হয়। যশোর সদর ৩ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর ৩ দফা হামলা চালায় সরকারি দলের গুন্ডা বাহিনী। প্রচারণা চলাকালে তার ওপর গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনও সরাসরি তার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাবিল আহমেদের পোষ্য গুন্ডারা। ভাঙচুড় করা হয় প্রার্থীর গাড়ি এবং ঘটনাস্থলে একজন মিডিয়া কর্মীকে জখম করা হয়। এসব ঘটনা ছাড়াও সারা দেশে ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়, ১৭ জন প্রার্থীকে কারাগারে পাঠানো হয়, যা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। নির্বাচনের দিনে সহিংসতায় সারাদেশে নিহত হন ১৮ জন।
তফসীল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের আচরণ এবং সরকারের মোটিভ দেখে অনুমান করা যাচ্ছিল, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পথে যেতে রাজি নয় সরকার। কেননা বিভিন্ন সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে সরকার নিজেদের জনপ্রিয়তার বেহাল অবস্থার বাস্তবতা অনুভব করে। সাধারণ মানুষকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়া হলে তা আওয়ামী লীগের দু’দফা শাসন আমলের অনিয়ম, দুর্নীতি, দমন পীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের প্রতিফলন ঘটে যাওয়ার সম্ভবনা আঁচ করেই জনগণের ভোটাধিকার লুণ্ঠনের সূদুর প্রসারী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটায় ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি কতকগুলো বৈশিষ্ট্যর কারণে কলঙ্কিত হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। প্রথমত; এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক মানুষের পেশাগত নৈতিকতার জায়গাটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের পবিত্র দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত সরকারি ও বেসরকারি নানা পেশাজীবীর মানুষকে বাধ্য করা হয়েছে অনিয়মকে সহায়তা করতে। তৎকালীন সময়ে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের চাকরি, জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নতজানু থেকেছেন। ভোটের আগের দিন রাতেই তারা সরকারি দলের লোকজনের হাতে ব্যালেট পেপার তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো প্রিসাইডিং অফিসার বা সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে মনোনীত হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে টেলিফোন করে বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি তাদের কর্মস্থলে গিয়ে আগাম খোঁজ খবর নেয় প্রশাসনের লোকজন, যা এক ধরণের মনস্তাত্তিক চাপ তৈরি করে সরকারের নির্দেশ পালনে বাধ্য করার একটি প্রক্রিয়া বলে প্রতিয়মান হয়েছে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, নির্বাচনের দায়িত্বে মনোনীত ব্যক্তিরা কে কোন দল করেন, তারও একটি গোপন তালিকা তৈরি করা হয় পুলিশের সহযোগিতায়। সে হিসাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যতটা সম্ভব তাদরে পক্ষের লোকজনদের মাঝে ভোটের দায়িত্ব বন্টন করে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখার পরিবেশ তৈরি করে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা প্রয়োজন এবারের নির্বাচনের ৭০২ কোটি টাকা বাজেটের মধ্যে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর ভাতাসহ অন্যান্য প্রয়োজনে।
দ্বিতীয়ত; মনোনয়ন পত্রে নানা ত্রুটির কথা তুলে ধরে ভোটের আগেই অর্ধেকের বেশি আসন নিজেদের আয়ত্তে নেয়ার পরিকল্পনা যে করা হয়েছিল, তা এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের রেকর্ড দেখে সহজে অনুমান করা যায়। বিষয়টি আগাম আঁচ করতে পেরে সব আসনেই বিএনপি একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। ২৯৫টি আসনে বিএনপির পক্ষে ৬৯৬ জন মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। অপর দিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২৬৮টি আসনে ২৮১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টি ২১০টি আসনে ২৩৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলের মহাসচিবসহ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। কেবল এই মনোনয়ন বাতিল করা নয়, মনোনয়নপত্র জমা দানকালে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বাধা সৃষ্টি করা এবং তা গ্রহন না করার নানা অভিযোগ ওঠে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এমন কি আদালতের শরণাপন্ন হতে হয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের। তবে শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের রায়ে মনোনয়ন বাতিল হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১৩ প্রার্থীর।
তৃতীয়ত; তফসীল ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। ফলে বিএনপির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও সংগঠক শ্রেণীর কেউই নিজ নিজ বাড়িতে, এমন কি নিজের এলাকায় থাকতে পারেননি। অসংখ্য নেতাকর্মী বাধ্য হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়, প্রচন্ড শীতের মধ্যে সারা রাত নির্জন মাঠে, ধান ক্ষেতে লুকিয়ে কিংবা বারবার স্থান পরিবর্তন করে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা চালায়। নানা প্রতিকুলতার পরও যারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে শুরু করেছিলেন, তাদের কোন ভাবেই শান্তিতে থাকতে দেয়নি পুলিশ। পাশাপাশি অব্যাহত ছিল সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ তান্ডব। সবচেয়ে দুঃখজনক এবং অমানবিক দৃষ্টান্ত হলো বিএনপির সক্রিয় নেতা কর্মী ও তাদরে পরিবারকে মানসিক ভাবে দূর্বল করে দিতে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়েই সারা দেশে বিরাজ করে এমন পরিবেশ। যশোর সদর আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রচারণায় অংশ নেয়া কোন কোন নেতাকর্মীর বাড়িতে নারকীয় তান্ডব চালায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সন্ত্রাসী বাহিনী একাধিকবার। শুধু কি তাই; প্রচারণার দিনগুলোতে এমন অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা বিএনপির কোন নেতা বা কর্মী নন, যাদের রাজনীতির সাথে কোন সম্পর্ক নেই, যারা কেবলই নীরব সমর্থক। ধানের শীষের পক্ষে তারা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার অপরাধে তাদরেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি এলাকার সরকারি দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ লোকজনের তালিকা তৈরি করে পুলিশকে সরবরাহ করে এবং সেই অনুযায়ী ভোটের আগের দিন রাত পর্যন্ত গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী। মূল কথা হলো যে কোন উপায়ে ভোটের আগে প্রার্থীকে নেতাশূন্য করে দেওয়ার একটি পূর্ব পরিকল্পনা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ।







