ঝিকরগাছায় চেতনানাশক স্প্রেতে একই পরিবারের ৮ জন হাসপাতালে, আতঙ্কে এলাকাবাসী

0
ছবি: লোকসমাজ।

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর) ॥ যশোরের ঝিকরগাছায় একটি বাড়িতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের ছোড়া চেতনানাশক স্প্রেতে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ আটজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের দিগদানা গ্রামে আনন্দ কুন্ডুর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অসুস্থ আটজনই ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই গভীর রাতে কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আনন্দ কুন্ডুর বাড়ির আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতর চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রে বা রাসায়নিক ছড়িয়ে দেয়। এতে ঘরে থাকা নারী ও দুই শিশুসহ আটজন গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়েন। তবে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সম্পূর্ণ অচেতন না হওয়ায় এবং সময়মতো টের পাওয়ায় কোনো মালামাল চুরি করতে পারেনি দুর্বৃত্তরা।

বুধবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় আটজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিরা হলেন আনন্দ কুন্ডুর স্ত্রী উন্নতি কুণ্ড (৫০), তার দুই মেয়ে মনিমালা কুন্ডু (২০) ও রত্না কুন্ডু (৩০), রত্নার ছয় মাস বয়সী শিশু সন্তান রহিত মিত্র, বিশ্বজিৎ কুন্ডুর মেয়ে জতি কুন্ডু (১৫), আনন্দ কুন্ডুর জামাতা সজিব মিত্র (২৯), সৌরভ কুন্ডুর স্ত্রী মুক্তা কুন্ডু (৩০) এবং তার ১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান কুঞ্জা কুন্ডু।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চুরি ও ডাকাত চক্রের এমন নতুন কৌশলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার আশিক হাসিব জানান, রোগীরা অজ্ঞাত বিষক্রিয়া বা আননোন পয়জনিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তিনি আরও জানান, মাত্র তিনদিন আগে একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে একইভাবে চেতনানাশক ব্যবহার করে মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে একটি চক্র। চুরি হওয়া মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপরাধী চক্রটিকে শনাক্ত করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।