যবিপ্রবিতে খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ : সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

0
ছবি: সংগৃহীত।

যবিপ্রবি সংবাদদাতা ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শন চলাকালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শন চলাকালে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। খেলা শেষে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়াম থেকে বের হয়ে শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ এবং সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলামের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের পরিপন্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পৃথক অভিযোগপত্রে তাদের সহপাঠীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওসহ সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলার স্থান নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”