চৌগাছা সবজি বাজারে জায়গা সংকট: কেনাকাটা না করেই চলে গেলেন ব্যাপারীরা, বিপাকে কৃষক

0
যশোরের চৌগাছা সবজি বাজারে তীব্র জায়গা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সবজি না কিনেই হাট ত্যাগ করেছেন ব্যাপারীরা। এতে অবিক্রিত পড়ে আছে হাজার হাজার মন সবজি, চরম সংকটে সাধারণ কৃষকেরা।। ছবি: লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা যশোর ॥ যশোরের চৌগাছার প্রধান সবজি বাজার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মডেল মসজিদ নির্মানের জন্য সবজি বাজারের বড় একটি অংশ চলে গেছে মসজিদের স্থানে। সেই জায়গার আড়ৎ ব্যবসায়ীরা হাটের মুল স্থলে গড়ে তুলেছেন আড়ৎ, ফলে দেখা দিয়েছে জায়গা সংকট। শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটের দিন ব্যাপারীরা এসে তাদের ট্রাক রাখতে না পেরে এবং সবজি কিনে তা বস্তা ভরে ট্রাকে তুলবে এমন খালি জায়গা না পেরে রাগে ক্ষোভে সকল ব্যাপারী একযোগে বাজার ত্যাগ করেছেন। ব্যাপরী চলে যাওয়ায় সবজি বিক্রি বন্ধ মহাবিপাকে পড়েছেন কৃষক।

শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে বাজারে যেয়ে দেখা যায়, দুই শতাধিক আড়তের সামনে হাজার হাজার মন সবজি পড়ে আছে কেনার কেউ নেই।

এ সময় কথা হয় কৃষক মতিয়ার রহমানের সাথে। তিনি বলেন, হাটের জায়গায় মডেল মসজিদ হচ্ছে জায়গা ছোট হয়ে গেছে ব্যাপারীরা মাল না কিনেই চলে গেছে আমরা এখন কি করবো। আড়ৎ ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, বৃহৎ এই হাটে হাজারো মানুষের রুজিরুটির ব্যবস্থা কিন্তু হাটটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে হাটের জমিতে মডেল মসজিদ নির্মান। এরফলে জায়গা কমে গেছে ওই স্থানের আড়ৎ ব্যবসায়ীরা হাটের মুল জায়গায় আড়ৎ দিয়েছে। ব্যাপারীরা এসে তারা সবজি কিনে রাখতে পারছে না, ট্রাক রাখতে পারছে না ফলে সব ব্যাপারী এক জোট হয়ে কোন সবজি না কিনেই চলে গেছেন। এখন যত বিপদ হচ্ছে কৃষকের।

আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুশিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বিএম আইনাল হোসেন বলেন, হাটের জমিতে মসজিদ নির্মানের কারনেই আজ এই পরিস্থিতি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুর্নবাসন করেছি এতে হাটের জায়গা কমে গেছে ঠিকই কিন্তু হাট মালিকের উদাসিনতার কারনে বেশি ক্ষতি হয়েছে। হাটের খালি জায়গার বড় একটি অংশ কাদায় নিমজ্জিত, এর ভিতরে আবার মাছ ও চটপেতে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। যার কারনে চরম জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। আজ ব্যাপারীরা এসে এই পরিস্থিতি দেখে হাট মালিকের নিকট গেছেন, তিনি ব্যাপারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করেনি সে কারনে তারা রাগ করেই বাজার ত্যাগ করেছেন।

ব্যাপারী আব্দুস সালাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই হাট থেকে ট্রাক ট্রাক সবজি কিনে ঢাকা চিটাগং নিয়ে যায় কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে সবজি কেনার পরিবেশ নেই তাই চলে যেতে বাধ্য হয়েছি।

প্রধান সবজি বাজারে ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, মসজিদ হওয়ায় ফলে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে, তারমধ্যে আড়ৎদাররা যে যার মত জমি দখলে নিয়ে আড়ৎ বানিয়েছে। আজকে হাটের এই অবস্থা দেখে ব্যাপারীরা মাল না কিনে চলে গেছেন। আমি তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি মহল চৌগাছার সবজি বাজার ধ্বংস হয়ে যাক সেটিই চাচ্ছে। তা না হলে চৌগাছায় বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি আছে সেখানে মসজিদ না করে তড়িঘড়ি করে কেন সবজি বাজারের জমিতে এটি নির্মাণ করছেন। মসজিদ আল্লাহর ঘর, চৌগাছায় এমন সুন্দর একটা মসজিদ হোক সকলের চাওয়া কিন্তু আর একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে কেন? সবজি বাজার ধ্বংস হলে হাজার হাজার মানুষ হবে বেকার, সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সবজি হাট না থাকলে তার প্রভাব পড়বে সব ব্যবসার পরে তারপরও মহলটি সবজি বাজারেই মসজিদ করতে মরিয়া।