স্মরণে মার্চ ’৭১

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ ১১ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সারা দেশে মুক্তি আন্দোলন আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। গণআন্দোলনে পাকবাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। এদিন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি কে উলফ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার কাছে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সমরসজ্জায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ন্যাপ প্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সাত কোটি বাঙালির নেতা। লক্ষ্য অর্জনের জন্যে সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করুন। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা উচিত নয়। জনগণ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এদিনও সর্বস্তরের মানুষ সরকারের সঙ্গে সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রাখে। হাইকোর্টের বিচারপতি ও প্রশাসনের সচিবসহ সারা বাংলার সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের কর্মচারীরা অফিস বর্জন করেন। ১১ মার্চ সচিবালয়, মুখ্য সচিবের বাসভবন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ সব সরকারি ও আধাসরকারি ভবন ও বাসগৃহের শীর্ষে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়তে থাকে। এদিন সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক সরবরাহে বাধার সৃষ্টি করে সংগ্রামী জনতা। রংপুর, যশোর ও সিলেটে রেশন নেয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে বাধা দেয়া হয়। রাতে কর্তৃপক্ষ সামরিক আদেশ জারি করে। কুমিল্লা কারাগার থেকে পালাতে গিয়ে ১১ মার্চ পুলিশের গুলিতে পাঁচ কয়েদি নিহত হন। অন্যদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে ২৪ কয়েদি পালিয়ে যান। লোকজন না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ অচল হয়ে পড়ে।