‘বিচার জানতাম না বলে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ শেখ হাসিনার নেই’, ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে স্পষ্ট বক্তব্য প্রসিকিউটরের

0
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বিভিন্ন আইনি প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বিচার সম্পর্কে জানতাম না বা তামাদি মওকুফ চাই’—এমন আইনি সুযোগ নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে আসা খবরের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, “এই যে ফিরে আসার ব্যাপারটা আমরা যেভাবে দেখছি, সেটা হলো…যারা পলাতক থাকে, তারা ফিরে এসে সব সময় একটা কথাই বলে, সেটা হলো যে আমি এই প্রসিডিংস সম্পর্কে জানতাম না। যেহেতু আমার অগোচরে হয়েছে, অতএব আমি এই তামাদি মওকুফ চাই।…আমি যেহেতু জানতাম না, আমাকে ডিলে কনডোন (বিলম্ব মওকুফ) করে দেন, আমি বিচারের সম্মুখীন হতে চাই।”

তবে এই মামলায় দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এই যুক্তি খাটবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দণ্ডিত শেখ হাসিনাসহ এই মামলার আসামিরা এই প্লি-টা (আবেদন) কোনোভাবেই নিতে পারবেন না। কারণ তাঁরা এই মামলা সম্পর্কে জানেন এবং সেখানে বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, ফিরে আসার কথা বলছেন এবং মামলাকে তাঁরা মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন। অতএব তাঁরা কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এসে এই সুযোগটা আর নিতে পারবেন না, যখন আমরা দেখাব যে—না, তাঁরা অলরেডি মামলার কথা জেনে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করে প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুস্পষ্ট বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আলোকে ভারতে অবস্থানরত যেকোনো ব্যক্তি—যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা বা সাজা পরোয়ানা রয়েছে—তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য ভারত। এই আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতের কোনো শর্ত দেখানোর সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।