যশোরে জামায়াত সমর্থক আটক

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : যশোর সদর উপজেলার সাতমাইল বারীনগর বাজারে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

আটক দীন ইসলাম বারীনগর এলাকার আলি আকবারের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল।

হৈবতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান দাবি করেন, রোববার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে দীন ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়েও মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে অভিযুক্ত ভিডিওগুলোর কোনো কপি তার কাছে নেই বলে জানান তিনি। তার দাবি, ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রথম অবগত হন স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল মেম্বার।

ইউপি সদস্য বিল্লাল মেম্বার বলেন, দীন ইসলাম একাধিক ভিডিও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছিলেন এবং বাজারের অনেক মানুষ সেগুলো দেখেছেন। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে ভিডিওগুলোর কোনো কপি তার কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার আমির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীন ইসলাম জামায়াতের একজন সমর্থক এবং বারীনগর বাজারে তার একটি জুতার দোকান রয়েছে। দোকানটি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুর রউফ বলেন, তারা প্রথমে খবর পান যে স্থানীয়রা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আটক করে রেখেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আটক ব্যক্তি জামায়াতের সমর্থক। পরে তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে কথিত কটূক্তিমূলক ভিডিও তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দীন ইসলামকে হেফাজতে নেয়। ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।