যশোরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন এ খাতকে শিল্পে রূপ দেওয়ার আহ্বান

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মৎস্য উৎপাদনে সাফল্য তুলে ধরা, নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদনে জনসচেতনতা তৈরি, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ পক্ষ পালন করা হচ্ছে।

রোববার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদফতরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভ্যাাত্রা বের করা হয়। এতে মৎস্যচাষি, হ্যাচারি মালিক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ছবি: লোকসমাজ।

শোভাযাত্রা শেষে পৌর পার্কের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু জাফর সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাদু পানি উপকেন্দ্র, যশোরের প্রধান ডা. এএসএম তানভিরুল হক।

প্রধান অতিথি দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, যশোরে মৎস্য চাষের সম্প্রসারণে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মৎস্যচাষিদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। বিদ্যুৎসহ কিছু সমস্যা জাতীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে এসব বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ছবি: লোকসমাজ।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে মাথাপিছু দৈনিক মাছের প্রাপ্যতা ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রাম। জাতীয় পুষ্টিচাহিদা অনুযায়ী মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজন ৬০ গ্রাম। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বর্তমানে মাছের প্রাপ্যতা বেশি।

ছবি: লোকসমাজ।

বক্তারা দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা, জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জেলে ও মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সভা শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখায় মৎস্যচাষি ও হ্যাচারি মালিকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।