স্বেচ্ছাসেবক কর্মচারী নামে যশোর জেনারেল হাসপাতালে দালাল ও প্রতারকের স্বীকৃতি

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ টাকা ছাড়া সেবা মেলেনা যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক কর্মচারীদের কাছে। হাসপাতালে আসা লোকজনকে তাদের টাকা দিয়ে সেবা নিতে হয়। চিকিৎসা উপকরণের সংকট দেখিয়ে বাইরের উপকরণ ক্রয় করার নামে তারা টাকা নেন। ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেছেন।
সূত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে জামেলা খাতুন নামে দু’বছর বয়সী এক শিশু একতলা ছাদের ওপর খেলা করার সময় নিচে পড়ে আহত হয়। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জামেলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে তৃতীয়তলায় মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ১নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে মাগুরার মহাম্মদপুরের বণি আমিনের কন্যা। মাসিলা গ্রামে মামা বাড়ি বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে জামেলাকে ভর্তি করার পর তার পায়ে ব্যান্ডেজ করার প্রয়োজন হয়। এ সময় ওই ওয়ার্ডে আয়া হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কোহিনুর বেগম ও শাহানাজ বেগম মিলে রোগীর মামা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাসিলা গ্রামের মুক্তার হোসেনকে প্লাস্টার (ছবরুল) ও ব্যান্ডেজ কিনে আনার জন্যে বলে। পরক্ষণে জানায়, তারা যদি নিজেরা কিনে আনে, তাহলে ফার্মেসি বেশি টাকা নেবে। তাই বাইরে থেকে কিনতে হবে না। তাদের কাছে আছে। টাকা দিলেই হবে। এ কথা বলে শিশু জামেলার পা প্লাস্টার ও টানা বেঁধে দেয় কোহিনুর ও শাহানাজ। বিনিময়ে মুক্তার হোসেনের কাছ থেকে ৮শ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি নিয়ে আহত শিশুর মাতা তহমিনা বেগম ও মামা মুক্তার হোসেনের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, প্লাস্টার ও ব্যান্ডেজ নেই হাসপাতালে। তাই এসব কেনা বাবদ ওই কর্মচারীরা তাদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু সেখানে ৮শ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বেসরকারি কর্মচারী কোহিনুর বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। তারা ৮শ টাকা দিয়েছে। উপকরণের মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কোহিনুর বেগম জানান ১টি ছবরুলের মূল্য ৪০ টাকা, রডের মূল্য ২০ টাকা এবং বাঁধার জন্যে টানার মূল্য ২শ ৮০ টাকা মোট ৩শ ৪০ টাকা পড়েছে। এগুলি হাসপাতালে সরবরাহ নেই। প্লাস্টার ও টানা বাঁধা বাবদ ৫শ টাকা মিলে মোট ৮শ টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কোহিনুর জানান, টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু তারা কোনো বেতন পান না। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। তাই রোগীদের কাছ থেকে তারা টাকা নিয়ে থাকেন। একইদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মোবাশ্বের হোসেন রাহাত নামে সাড়ে ৩ বছর বয়সী এক শিশুর হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের ব্রাদার তারক চন্দ্র তার হাত প্লাস্টার করে দেন। মোবাশ্বের হোসেনের নানী রহিমা বেগম তাকে হাসপাতালে নেন। তাকে ৩শ ২০ টাকার উপকরণ কিনতে হয়েছে। তারা প্লাস্টার বাবদ জরুরি বিভাগে কর্মরত তারক চন্দ্র টাকা নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে প্লাস্টারসহ অন্যান্য উপকরণ হাসপাতালে সরবরাহ নেই। আছে শুধু গজ ও তুলা। আহত মোবাশ্বের হোসেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা ঘোপ গ্রামের মো. রনির পুত্র।
সূত্র জানিয়েছে, এ হাসপাতালে ৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মচারী কাজ করেন। তারা কোনো বেতন পান না। রোগীদের কাছ থেকে এভাবে তারা সেবার বিনিময়ে টাকা নেন। হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হলেও মানুষের সেবা বাড়ছেনা এবং ও বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি বাড়ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এ কারণে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও ১৬জন আউট সোর্সিং কর্মচারী হাসপাতালে কাজ করেন। করোনারি কেয়ার ইউনিটে কাজ করেন আরো ১৬ জন । তারা মাসিক বেতন পেলেও রোগী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাজ করে টাকা আদায় করেন। জরুরি বিভাগে দুটি প্লাস্টার রুম রয়েছে। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী যারাই কাজ করেন, তারা একইভাবে নানা অজুহাতে রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন। এভাবে প্রতিদিন সেবা নিতে মোটা অংকের টাকা গুণতে হচ্ছে রোগীদের। এ ব্যাপারে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ রকমতো হওয়ার কথা না। ‘চিকিৎসার উপকরণ যদি না থাকতো, তাহলে তারা আমাকে জানাতো, কিন্তু জানায়নি।’ তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।