সার ব্যবসায়ীর চাঁদাবাজির মামলায় চাঁচড়ার ইউপি সদস্যসহ আটক ৩

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে একজন সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজুলসহ ৩ জনকে বৃহস্পতিবার আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান শামীম রেজাকে খুঁজছে পুলিশ।
পুুলিশ জানায়, চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ৮ আগস্ট চেয়ারম্যান শামীম রেজা ও সদস্য আজিজুলসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পুলেরহাট বাজারের রহিম ট্রেডার্সের মালিক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ।
মামলায় অভিযুক্ত অপর দুই জন হলেন ভাতুড়িয়া গ্রামের রওশন আলীর ছেলে আব্দুল গফ্ফার ও তফসীডাঙ্গার আব্দুল আহাদের ছেলে মামুন।
সদস্য আজিজুল এবং আব্দুল গফ্ফার ও মামুনকে বৃহস্পতিবার আটক করেছে পুলিশ।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, ওই ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা থানায় নিয়ে এসেছেন। চেয়ারম্যান শামীম রেজাকেও তারা খুঁজছেন।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, পুলেরহাট বাজারে তার রহিম ট্রেডার্স নামে সার ও কীটনাশকের একটি দোকান রয়েছে। গত ৭ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি দোকানে এসে আব্দুল্লাহকে বলেন, তার কাছ থেকে ক্রয় করা কীটনাশক পুকুরে প্রয়োগ করার কারণে মাছের ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য ওই ব্যক্তি তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর পরপরই তফসীডাঙ্গার গ্রামের মামুন দোকানে আসেন এবং আব্দুল্লাহকে ডেকে পুলেরহাট বাজারস্থ নিজ অফিসে নিয়ে যান। সেখানে মামুন তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় কোনো উপায় না পেয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আলামিনকে দিয়ে আইএফআইসি ব্যাংক পুলেরহাট শাখা থেকে ৫ লাখ টাকা উঠিয়ে মামুনের অফিসে নিয়ে আসেন। তখন ওই অফিসে মামুন ও আব্দুল গফ্ফার ছাড়াও চেয়ারম্যান শামীম রেজা ও সদস্য আজিজুল উপস্থিত ছিলেন। এরপর তার ৫ লাখ টাকা আব্দুল গফ্ফারকে দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা হস্তান্তরের সময় চেয়ারম্যান শামীমের নির্দেশে মামুনের অফিসে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিলো। ৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর ওই অফিস থেকে অভিযুক্তরা আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে থানা পুলিশ করলে আব্দুল্লাহর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়াও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান শামীম রেজা জানান, নকল ওষুধ দেওয়ায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শালিস করেছিলেন। কিন্তু এটাকে পূঁজি করে তার বিরুদ্ধে থানায় ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ করা হয়েছে।