শৈলকুপায় পাচারের সময় সার জব্দ, কোটচাঁদপুরে জরিমান

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ শৈলকুপায় বর্ডার বা আন্তঃজেলা সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় এক টন (১ হাজার কেজি) সার জব্দ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার চড়িয়ার বিল বাজার এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এসব সার আটক করা হয়।

স্থানীয় কৃষক আরাফাতুজ্জামান জানান, কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে একটি ভ্যানে ১৫ বস্তা ডিএপি ও ৫ বস্তা টিএসপি সার বেআইনিভাবে পাচার করে শৈলকুপার ফুলহরি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। চড়িয়ার বিল বাজারে পৌঁছালে স্থানীয়রা ভ্যানটি আটকে রেখে প্রশাসনকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে শৈলকুপার মির্জাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব আহমেদ পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক হাজার কেজি সার জব্দ করেন। জব্দ সার দুপুরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে তাৎক্ষণিক বিক্রি করা হয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অন্য এক অভিযানে মঙ্গলবার কোটচাঁদপুরের দুধসরা এলাকার মিসেস হোসনে আরার মালিকানাধীন ‘মেসার্স নওশের আলী ট্রেডার্সে’ ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের ঘাটতি পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসাইন। মজুত ও বিক্রির হিসেবে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় ওই সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে জানান, সার নিয়ে কাউকে কারসাজি করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ইউপি সদস্য আরাফ উদ্দীন স্বপন অভিযোগ করেন, ভরা মৌসুমে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার ও সাব ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা কালোবাজারে চড়া দামে পাচার করে দিচ্ছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারের বিসিআইসি ডিলার ও কারাগারে থাকা ঝিনাইদহ-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারের মালিকানাধীন ‘মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ’-র গুদামে ১,১৫২ বস্তা সার লুকিয়ে রেখে কৃষকদের না দেওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ হয়। পরে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের নির্দেশে গুদাম খুলে সার বিক্রি করা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হুমায়ুন বাবর ফিরোজ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট জমানায় রাজনৈতিক কোটায় ডিলারশিপ পাওয়া সিন্ডিকেটগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এরা প্রকাশ্যে সার কালোবাজারে বিক্রি করছে। পুরো জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের ডিলারশিপ অবিলম্বে বাতিল করে এদের আইনের আওতায় আনতে হবে।