শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিজের সন্তানের মতো পরিচর্যা করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নতুন করে গাছ লাগানো কিংবা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিকে সফল করার কোনো বিকল্প নেই। এই দেশকে বসবাসযোগ্য এবং আগামী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ বাংলাদেশ হিসেবে উপহার দিতে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিজের সন্তানের মতো যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছে। দীর্ঘ দিন পর জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মেলবন্ধনে তাদের অর্থ লোপাট হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় জনগণের অর্থ নয়ছয় করার সুযোগ নেই। জনগণের প্রাপ্য জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।

শুক্রবার সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের জন্য ফ্যান, হুইলচেয়ার, ট্রলি, পল্লী উদ্যোক্তা ঋণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী, কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি, নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনা খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ যশোর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে তিনি শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং মেলার শ্রেষ্ঠ স্টল ও উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন।

সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি কখনো উন্নয়নে বৈষম্য করে না। উন্নয়নের জন্য হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য কিংবা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস বিবেচনা করে না। আমার যখন অনুদান দেওয়ার সময় এসেছে, দুটি অনুদানের মধ্যে একটি কারবালা কবরস্থানে এবং আরেকটি নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে দিয়েছি। অতীতে কার্ড পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের কাছে ধরণা দিতে হতো।

প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই তিনি ফ্যামিলি কার্ড বা পারিবারিক কার্ড সকলের জন্য নিশ্চিত করতে চান। এখানে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় নিয়ে কেউ কার্ড পাবে আর কেউ পাবে না, এমনটি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত ব্যক্তিরাই কার্ড পাবেন। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে। রাজনীতি করতে এসে নয়ছয় করব, মিথ্যাচার করে ভোট নিয়ে আপনাদের (জনগণ) আমানতের খেয়ানত করব, এটা বিএনপির রাজনীতি নয়।

ছবি: লোকসমাজ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এই যশোরকে মাদক এবং সন্ত্রাসমুক্ত করতে রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক শক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, সেটি আমার নিজ দলের কেউ হলেও কোনো আপস করা হবে না। মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে প্রশাসনের যেসকল কর্তাব্যক্তিরা ব্যর্থ হবেন, আপনাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে।

ছবি: লোকসমাজ।

প্রতিমন্ত্রী যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি স্কুল এবং কলেজে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরিতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থসহায়তা করার ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নতুন করে গাছ লাগানো কিংবা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিকে সফল করার কোনো বিকল্প নেই। এই দেশকে বসবাসযোগ্য এবং আগামী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ বাংলাদেশ হিসেবে উপহার দিতে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিজের সন্তানের মতো যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।

সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিমন্ত্রী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১০০টি ফ্যান, ১০টি করে ট্রলি ও হুইলচেয়ার, প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে ১০টি হুইলচেয়ার, ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের আধুনিকায়নের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ ডিজিটাল ডিভাইস, ১৭৫ জনের মাঝে নগদ ৪ হাজার টাকা, ১০ জনের মাঝে গৃহনির্মাণের চেক, ৫০ জন দরিদ্র ব্যক্তির মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ৩ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মাঝে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্র ঋণের চেক এবং ৬ জন কৃষি উদ্যোক্তার মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি প্রদান করেন।

পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন সাফায়েত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন প্রমুখ।

ছবি: লোকসমাজ।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেলার স্টল মালিকদের আশানুরূপ বেচাকেনা না হওয়ায় স্টল মালিকদের বিশেষ অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী মেলার সময়সীমা দুদিন বৃদ্ধি করেন। সে কারণে আগামীকাল রোববার মেলা শেষ হবে।

শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে সাবিহা কবির অরিন প্রথম, মাজাবি জাহান অপ্সরা দ্বিতীয় এবং আধিলা রসুল তৃতীয়; ‘খ’ বিভাগে আয়ান রেজা প্রথম, মারিয়া নাহার দ্বিতীয়, জেসমা উম্মে দিনা তৃতীয় এবং ‘গ’ বিভাগে সেঁজুতি বিশ্বাস প্রথম, সিফাত আহমেদ লাবিব দ্বিতীয় ও রাহুল সরকার তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

মেলার স্টল মালিকদের মধ্যে হাজারো নার্সারি প্রথম, সবুজ নার্সারি দ্বিতীয় এবং তন্দ্রা নার্সারি তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বিশেষ উদ্যোক্তা হিসেবে বিসমিল্লাহ বনসাই প্রথম, পথিক কর্নার দ্বিতীয় এবং প্ল্যান্ট হাউস তৃতীয় স্থান অর্জন করে।