কয়রা উপকূলে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮ জন

0

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা), লোকসমাজ : সুন্দরবনবেষ্টিত খুলনার কয়রা উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনে ভর্তি হওয়া ৩৮ রোগীর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী দুটি শিশুও রয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৯ জন। দুই মাসে মোট ভর্তি হওয়া ৫৭ রোগীর মধ্যে ১০ জনকে খুলনায় রেফার করা হয়েছে। বাকিদের অধিকাংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগেও জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন বহু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েকজন রোগীকে বারান্দা ও কেবিনের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। শয্যা সংকটের কারণে অনেককে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

মদিনাবাদ গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত শাহিন বলেন, “পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। শয্যা না থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।”

এক রোগীর বাবা সোহেল জানান, হাসপাতালে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না, এমনকি বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। তার ছেলের প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলেও তিনি জানান। দিনমজুর পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

কালনা গ্রামের বাসিন্দা মাসুরা বলেন, “সাড়ে চার বছরের শিশুকে নিয়ে দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। শিশুর ১০৫ ডিগ্রি জ্বর ছিল। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় উদ্বেগের মধ্যে আছি। প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে।”

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৩১ শয্যার মূল ভবনের নির্মাণকাজ কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি জটিলতার কারণে কাজ থেমে থাকলেও সম্প্রতি পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। তবে এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, “ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে আলাদা শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। জ্বরের রোগীদের পরীক্ষার জন্য এনএস-ওয়ান (NS1) কিট মজুত আছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইনও রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৩১ শয্যার মূল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বর্তমানে ১৯ শয্যার ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে প্যাথলজিস্ট না থাকায় কিছু পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে।”

উপকূলীয় এই জনপদে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।