শিকারির ফাঁদে আহত বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বসছে ২০ ক্যামেরা

0
খুলনার বন্য প্রাণী পুনর্বাসনকেন্দ্রে খাঁচার ভেতর চিকিৎসাধীন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা ১০-১১ বছর বয়সী বাঘিনীটি।। ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া সেই বাঘিনীটি দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে অবশেষে নিজের ঘরে ফিরছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সুন্দরবনের বাগেরহাট অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হবে।
বর্তমানে বাঘিনীটি খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষ পুনর্বাসনকেন্দ্রে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘিনীটির বয়স আনুমানিক ১০ থেকে ১১ বছর। যখন তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন ক্ষুধায় এবং যন্ত্রণায় সেটি প্রায় কঙ্কালসার হয়ে পড়েছিল। ফাঁদের রশিতে বারবার টানাটানির কারণে সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি জায়গাজুড়ে চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। পুনর্বাসনকেন্দ্রে আনার পর অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে গত মার্চের দিকে ক্ষত শুকিয়ে আসে। বর্তমানে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ এবং তার বন্য ক্ষিপ্রতা ও গতি ফিরে পেয়েছে, ওজনও এখন স্বাভাবিক। আজ শুক্রবার বাঘিনীটির চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ডের সভা হবে এবং আগামীকাল শনিবার খুলনায় বাঘবিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে তাদের মতামত জানাবে।

বনে অবমুক্ত করার পর বাঘিনীটির নিরাপত্তা ও গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটির গলায় স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাঘিনীটির সম্ভাব্য বিচরণ এলাকার প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশেষ ‘ট্র্যাপ ক্যামেরা’ স্থাপন করা হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই এই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

যেভাবে উদ্ধার হয়েছিল বাঘিনীটি:

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের পূর্ব অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটি শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়ার খবর পায় বন বিভাগ। পরদিন ৪ জানুয়ারি বিশেষ ট্রাঙ্কুইলাইজারগান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন করে উদ্ধার করা হয়। এরপর লোহার খাঁচায় করে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় তাকে খুলনার পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রকৃতির সন্তান আবার প্রকৃতিতেই ফিরে যাচ্ছে।